Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রচারে বেরিয়ে জনতার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বিজেপি প্রার্থী, ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মতুয়ারা

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ শহরে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে কার্যত তারই পুনরাবৃত্তি হয়।

প্রচারে বেরিয়ে জনতার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বিজেপি প্রার্থী, ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মতুয়ারা
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ শহরে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে কার্যত তারই পুনরাবৃত্তি হয়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনেও বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এবার সেই শহরেই তৃণমূলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কারণ, গত পাঁচ বছরে  বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির অশোক কীর্তনিয়া শহরের তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি বলেই দাবি বাসিন্দাদের। উমপুন ঘূর্ণিঝড়, করোনা মহামারি বা বন্যার সময় দেখা মেলেনি বিধায়কের। ফলে ক্ষোভ জমেছে শহরবাসীর মনে। ভোটের প্রচারে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বনগাঁর তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের প্রচারে ভিড় উপচে পড়ছে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া প্রচার সারছেন হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী-সমর্থক নিয়ে। শুধু তাই নয়, শহরের একাধিক ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীর বাধা বা বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি পুরসভার ১৩, ১৪ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় বিজেপি প্রার্থীকে। কেন তাঁকে এতদিন এলাকায় দেখা যায়নি, জানতে চায় বাসিন্দাদের একাংশ। উলটোদিকে, ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনগাঁ শহরে জনসভা করে গিয়েছেন। সেই সভায় সাধারণ মানুষের ঠাসা ভিড় তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। সমর্থকরা উৎসাহ নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

Advertisement

বনগাঁ শহরে মতুয়া উদ্বাস্তু ভোটারের সংখ্যা অনেক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। অনীতা বিশ্বাস নামে এক মহিলা বলেন, ‘২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমি ভোট দিয়েছিলাম। অথচ আমার নাম বাদ গিয়েছে। অশোক কীর্তনিয়া আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনো মতুয়ার নাম বাদ যাবে না। তারপরও কেন নাম বাদ গেল? এতদিন বিজেপিকে ভোট দিয়েছি। এবার আমার কোনো আত্মীয়কে বিজেপিতে ভোট দিতে দেব না।’ তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘অশোক কীর্তনিয়া গত পাঁচ বছরে কোনো কাজ করেননি। মানুষের আপদেবিপদে পাশে ছিলেন না। ফলে মানুষের ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক।’
প্রচারে খামতি রাখছেন না তৃণমূল প্রার্থী। শহরের ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক মহল, অটো ও টোটোচালক, বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন। তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন। বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘আমার বিধায়ক তহবিলের টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, লিফলেট ছাপিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। তৃণমূলের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ জবাব দেবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ