


সংবাদদাতা, বনগাঁ: নিম্ন আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, উপযুক্ত ভিসা দেখাতে না পারলে ধৃত বাংলাদেশিকে ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন ধৃত এক বাংলাদেশি মহিলার আইনজীবী। হাইকোর্ট আট সপ্তাহের জন্য নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। গত ২৬ তারিখ জামিন পান ওই বাংলাদেশি মহিলা। আর জামিন পেয়েই ভারতের নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে এই বাংলাদেশি মহিলার জামিন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ থেকে কোনো হিন্দু সহ কয়েকটি ধর্মের মানুষ যদি নিপীড়নের কারণে এদেশে আসে, সেক্ষেত্রে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা যাবে না। এই আইনেই আদালত বাংলাদেশি মহিলাকে জামিন দিতে বাধ্য হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা শম্পা সরকার। বছর ২৭ বয়সের শম্পা বনগাঁ থানার চাঁদা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। প্রায় এক বছর পর অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। জমিনে ছাড়া পেয়েই শান্তনু ঠাকুরপন্থী মতুয়া মহাসংঘের সহযোগিতায় সিএএ-তে আবেদন করেন তিনি। শম্পাদেবী বলেন, ‘ওদেশে অত্যাচারিত হয়ে এদেশে এসেছি। আমি এদেশে থাকতে চাই।’ মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন গাইন বলেন, ‘বাংলাদেশি মহিলা আমাদের কাছে বিষয়টি জানান। তিনি এদেশে থাকতে চান। এরপর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।’
এসআইআরে ইতিমধ্যে বনগাঁ মহকুমায় কয়েক হাজার মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম বাদ গিয়েছে। মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আগেই বলেছিলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের সিএএতে আবেদন করতে হবে। তবে তাঁদের কাউকেই এদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে না।’ এখন ভোটের মুখে বিজেপি নেতৃত্ব শম্পা সরকারের জামিন প্রসঙ্গ তুলে প্রচারে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আইনে বলা আছে, ২৪ সালের আগে ওপার থেকে এদেশে আসা ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত মানুষজন ভারতে থাকতে পারবে। তাঁরা সিএএতে আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবে।’ জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘বিজেপি চক্রান্ত করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম বাদ দিয়েছে। সিএএতে আবেদন ভোটের আগে ভাঁওতা ছাড়া কিছুই না।’