


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার কেরল থেকে চলে গেলেন কালীগঞ্জে তামান্নার বাড়ি। জীবনের ৮৫তম বছরের শেষ ক’টা দিন এভাবেই কাটিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। মঙ্গলবার তিনি পা দিলেন ছিয়াশিতে। এদিন সকাল থেকেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলীয় নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁকে। ফোন এসেছে প্রকাশ কারাতসহ একাধিক নেতৃত্বের। বিদেশ থেকেও ফোন আসছে। এদিন ৮৬ বছরের এই ‘তরুণ’ রাজ্য অফিসে বসে কখনও রাজ্য-রাজনীতি, কখনও স্মৃতিচারণায় ফিরছেন। কথায় বারবার ফিরে আসছে কালীগঞ্জে খুন হয়ে যাওয়া ছোট্ট মেয়ে তামান্নার কথা।
গেরুয়া নেতারা যখন তুলসীগাছ নিয়ে রাজ্য গরম করছেন, বিমান বসু কলকাতা থেকে ফুলগাছ নিয়ে গিয়েছিলেন তামান্নার কবরে পুঁতবেন বলে। বলছিলেন, ‘টিভিতেই দেখেছিলাম, ওর বাড়ির দেওয়ালে হাতে আঁকা ফুলের ছবি লাগানো। বুঝেছিলাম, মেয়েটি ফুল ভালোবাসত। কেরল যাওয়ার আগেই ফুল গাছ নিয়ে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। ওর মায়ের কাছে শুনলাম, মেয়েটি ফুল ভালোবাসত।’
জন্মদিনের সকালে এক কর্মীর বাড়ি থেকে পায়েস এসেছিল বিমানবাবুর জন্য। সন্ধ্যায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য এসেছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। এককালে শ্যামল চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে পায়েস আসত। এখন কেমনভাবে কাটে জন্মদিন? বলছিলেন, ‘আর পাঁচটা দিনের মতোই। কয়েকজন পার্টি নেতা আমার জন্মদিন জানেন। তাই এদিন কোনও অনুষ্ঠান দেয় না আমাকে।’ এত ফোন পেয়ে তিনি অবাক! বিমানবাবু বলছেন, ‘ওঁরা মনে রাখেন কীভাবে?’ এবার তিনি তিনটি কলম উপহার পেয়েছেন। আর ফুলগুলো সযত্নে মুজফফর আহমেদের ছবিতে রেখে দিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।