


নিজস্ব প্রতিনিধ, বারাকপুর: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা কমাতে আরও সক্রিয় হল বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। মূল রাস্তায় বেশ কিছু যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তা জুড়ে কিছুটা পরপর পোস্টার সেঁটে সংশ্লিষ্ট চাকলদের সার্ভিস রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
মুড়াগাছা থেকে কাঁপা মোড় পর্যন্ত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল করছে। গাড়ির গতি কমানোর জন্য স্পিড লিমিট বা ক্যামেরা বসানো হলেও পরোয়া করছে না কেউই। মসৃণ রাস্তা দেখেই গতি বাড়াচ্ছেন চালকরা। যার ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে ব্যস্ততম কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে। পুলিশের হিসেবে অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছেন বাইক চালকরা। এবার দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে মূল রাস্তায় রুট-বাস, বাইক, ভ্যান ও সাইকেল নিষিদ্ধ করা হল। এগুলিকে সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচলের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এর জন্য বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় এইসব যানবাহনকে সার্ভিস রোড ব্যবহারের জন্য ফ্লেক্স, ব্যানার লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে ওই সমস্ত গাড়িকে সার্ভিস রোড ধরার জন্য বলা হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে বলে ট্রাফিক পুলিশের কর্তারা মনে করছেন।
বারাকপুর ট্রাফিক পুলিশের ডিসি অম্লানকুসুম ঘোষ জানিয়েছেন, আমরা চাইছি, সমস্ত বাইক সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করুক। মূল রাস্তায় সেগুলি যেন না ওঠে। তাহলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও যে সমস্ত রুট বাস চলাচল করে, সেগুলি সার্ভিস রোড দিয়ে যাতায়াত করুক এবং যাত্রী ওঠানামা করুক। ভ্যান ও সাইকেল যেন কোনওভাবেই মূল রাস্তায় যেতে না পারে। সেগুলিকে সার্ভিস রোড দিয়ে যাতায়াত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন জায়গায় বোর্ড লাগানো হয়েছে, পরে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে যে সংস্থা সমীক্ষা চালায়, তারাই সরেজামিনে দেখে রিপোর্ট দিয়েছিল। সেই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে, এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যাতে কেউ মদ খেয়ে গাড়ি চালাতে না পারে, তার জন্য চেকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় ক্যামেরা বসানো হয়েছে, আরও ক্যামেরা বসানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অস্বাভাবিক গতিতে যাতে গাড়ি চলতে না পারে, তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এই রাস্তায় বাইক রাইডারদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ‘রেস’ চলে। তা আটকাতে ভাবনাচিন্তা করছে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগ। এই রোডে স্বাভাবিক স্পিড বজায় রেখে দুর্ঘটনা একেবারে কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা করছে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগ।
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে পোস্টার। -নিজস্ব চিত্র