Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীত পড়তেই শিলিগুড়িতে বাড়ছে বাইক দুর্ঘটনা, ১০ দিনে মৃত ন’জন

শীত পড়তেই শিলিগুড়ি শহর ও লাগোয়া এলাকায় বাড়ছে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা। বেড়েছে মৃত্যুও। সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।

শীত পড়তেই শিলিগুড়িতে বাড়ছে বাইক দুর্ঘটনা, ১০ দিনে মৃত ন’জন
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শীত পড়তেই শিলিগুড়ি শহর ও লাগোয়া এলাকায় বাড়ছে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা। বেড়েছে মৃত্যুও। সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। তাতে দেখা গিয়েছে, শীতের সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় বাইক, স্কুটার চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে অনেকে। শীত পড়তেই সন্ধ্যার পর বাইক, স্কুটার দুর্ঘটনা ও তা থেকে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ উদ্বিগ্ন। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে শীত পড়তেই উদ্বেগজনকভাবে বাইক ও স্কুটার দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে। ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান রাজীব প্রসাদ বলেন, গত ১০ দিনে মোট বাইক ও স্কুটার দুর্ঘটনায় নয় জন মৃতের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সব দুর্ঘটনাই সন্ধ্যার পর হয়েছে এবং যাঁদের অধিকাংশই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বছরের অন্য সময়ে বাইক ও স্কুটার দুর্ঘটনায় এত মৃতদেহ আমরা পাই না। শীত পড়তেই যুবকদের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা বেড়েছে। তাই সন্ধ্যার পর থেকেই দুর্ঘটনা ঘটছে। 
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ট্রাফিক) কাজি সামসুদ্দিন আহমেদও এবিষয়টির সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাতে শহরের বিশেষ বিশেষ রাস্তায় আমাদের চেকিং চলছে। ১৩টি পয়েন্টে এই চেকিংয়ে অনেক মদ্যপ বাইক ও স্কুটার চালককে ধরে জরিমানা করা হচ্ছে। এত বড় এলাকায় রাস্তা অনেক, তাই শুধু পুলিশের চেকিংয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকেও এব্যাপারে সচেতন হতে হবে। 
এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বেপরোয়া গতিতে বাইক, স্কুটার ও গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ করতে শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। ডিসিপি (ট্রাফিক) আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে বাইক, স্কুটার চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। যা থেকে ঘটছে দুর্ঘটনা। শিলিগুড়ি শহরে প্রবেশ ও বাহির পথগুলিতে আমরা অটো স্পিড ডিটেক্ট  বসানোর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন এলে শহরের প্রবেশ ও বাহির পথে এই অটো স্পিড ডিটেক্টর বসানো থাকবে। কেউ নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে বাইক, স্কুটার, গাড়ি চালিয়ে গেলে তা চিহ্নিত হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ফাইন কাটা হবে। আশা করি এই ব্যবস্থা নেওয়ার পর দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ