পাটনা: শিয়রে বিহারের বিধানসভা ভোট। তার আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্রমেই সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রধান তেজস্বী যাদব— বিহারের ভোটার তালিকার গরমিলে যুক্ত রয়েছে খোদ কমিশনই। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) নামে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের নাম যুক্ত করা হচ্ছে ভোটার তালিকায়। বিজেপি নেতা-কর্মীদের জন্য একাধিক ইলেক্টর্স ফোটো আইডেন্টিটি কার্ড (এপিক) ইস্যু করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণে ভিখুভাই দালসানিয়া নামে গুজরাতের এক বিজেপি নেতার নামও উল্লেখ করেছেন লালুপ্রসাদ-পুত্র।
আরজেডি শীর্ষ নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভিখুভাই। এখন তিনি বিহারের ভোটার। অথচ শেষবার ওই ব্যক্তি গুজরাতেই ভোট দিয়েছিলেন, সেটা ২০২৪ সালে। তেজস্বীর সন্দেহ, এভাবেই বিজেপি নেতা-কর্মীদের নাম প্রয়োজনমতো নির্বাচনমুখী রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। এখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটলেই ভিখুভাইরা আবার এখান থেকে নাম কেটে অন্য কোনও রাজ্যের ভোটার হয়ে যাবেন। এটা একটা ষড়যন্ত্র। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি বড়সড় প্রতারণা করছে। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিহারে ভোট চুরি হয়েছিল। ১০টি আসনে ১২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যায় আরজেডি। এখন সত্যিটা প্রকাশ্যে চলে আসছে। এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেজস্বী। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। মৃতের তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন বেঁচে আছেন। শীর্ষ আদালতে তাঁরা হাজিরাও দিয়েছেন। সেই কারণে মানুষ ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে। আরজেডি প্রধানের মতে, এর আগে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডি, আয়করের মতো এজেন্সিকে ব্যবহার করত গেরুয়া শিবির। এখন আর সেই ছক কাজে আসছে না। তাই নির্বাচন কমিশনকে এগিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।