


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডুয়ার্সের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের সব থেকে বেশি নজর রয়েছে ভুটানের দিকে। কারণ, ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা ৭২টি নদী ও ঝোড়া দিয়ে নেমে আসা জলেই প্রতি বছর ভাসে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার। রবিবারই ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা ওয়াংচু নদীতে (পশ্চিমবঙ্গের অংশে যার নাম রায়ডাক) অবস্থিত তালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করেছিল। যার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তবে শুধু তালা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রই নয়, সাময়িক ‘শাট ডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে ভুটানে অবস্থিত আরও চারটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি। এর জেরে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলেই ভুটানের শক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রক সূত্রে খবর। ভুটান বিদ্যুৎ নিগমের তরফে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে তাদের তরফে।
ভুটানের এই পরিস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে বাংলার। রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, ভুটানে অতিবৃষ্টির জেরেই সেখানকার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে থিম্পু প্রশাসন। এর থেকেই পরিষ্কার ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জল, ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে কোন পর্যায়ে ধ্বংসলীলা চালাবে। কারন, ভুটান পাহাড়ের জলের সম্পূর্ণ ভার বইতে হয় উত্তরবঙ্গকে।
ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলে বাংলার মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে এদিন উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একাধিকবার বলা সত্ত্বেও ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গড়ার ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে এক হাত নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, একে তো বাংলাকে একটি টাকাও দেয়না। সেই সঙ্গে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির মতো জেলাকে বার বার বন্যার কবলে পড়া থেকে রক্ষা করতে রিভার কমিশন গড়ার রাজ্যের প্রস্তাব নিয়েও কোনও সদুত্তর দেয়নি কেন্দ্র।
ভুটানের ন’টির মধ্যে তালা ছাড়াও বন্ধ রাখতে হয়েছে সুচু, দাগাছু এবং পুনাতসাংছু-২ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তালা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপর দিয়ে এখনও জল বইছে। যদিও জলস্তর কিছুটা কমেছে বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির জন্য ভুটান সরকারের তরফ থেকে ড্রুক গ্রিন পাওয়ার কর্পোরেশন, ভুটান বিদ্যুৎ নিগম সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।