নয়াদিল্লি: ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ভারত বন্ধের জেরে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হল। ভালো প্রভাব পড়ল ব্যাংকিং ও পরিবহণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। মোদি সরকারের কৃষক-শ্রমিক ও দেশ বিরোধী নীতি এবং কর্পোরেটপন্থী মনোভাবের অভিযোগে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ। তারা জানিয়েছে, গোটা দেশের ৩০ কোটি শ্রমিক এদিনের ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদী সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা চারটি শ্রমবিধি বাতিল করতে হবে। কারণ, এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার বিপন্ন হচ্ছে, কমছে কাজের নিরাপত্তা। পাশাপাশি জি রাম জি আইন বাতিল করে ফের মনরেগা চালু সহ একাধিক দাবি তোলা হয়েছে।
এআইটিইউসির সাধারণ সম্পাদিকা অমরজিৎ কাউর বলেন, অসম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরল, ওড়িশা ও বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মঘটে ভালো সাড়ার রিপোর্ট মিলেছে। ব্যাংকিং, বিমা, ডাকঘর, পরিবহণ, স্বাস্থ্য, কয়লা ও খনি, গ্যাস পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের তোপ, কৃষক-শ্রমিক সহ দেশের কোটি কোটি নাগরিকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই চুক্তিকে ‘ট্র্যাপ ডিল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। ওড়িশায় ধর্মঘটের সমর্থনে ১৬ নং জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধের খবর মিলেছে। ভুবনেশ্বর, কটক ও রৌরকেলা সহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাহত হয়েছে পরিবহণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র। ভুবনেশ্বরে স্টেশনে স্কোয়ারের কাছে রাস্তা অবরোধ হয়। বাস অটো সহ পরিবহণ কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় স্টেশনে নামার পর আটকে পড়েন রেলযাত্রীরা। ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন কয়লা ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার গেটে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। কংগ্রেস ও বামদলগুলি ধর্মঘটকে সমর্থন করায় প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং, বিমা ও কয়লা ক্ষেত্রে। কেরলে বাস ও অটো-রিকশ সহ অন্যান্য পরিবহণ কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। মিশ্র সাড়া মিলেছে গোয়ায়। এআইটিইউসি সম্পাদক সুহাস নায়েক বলেন, ধর্মঘটের ডাকে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন শিল্প তালুকে কাজে অংশ নেননি ট্রেড ইউনিয়নগুলির সদস্যরা। তবে জরুরি পরিষেবাগুলি স্বাভাবিকই ছিল।