Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নিয়মভঙ্গ! অক্সফোর্ডের বাঙালি গবেষককে ব্রিটেন ছাড়ার নির্দেশ

গবেষণার জন্য ভারতে ‘অতিরিক্ত’ সময় থেকেছেন। এর জন্য এক ভারতীয় ইতিহাসবিদকে ব্রিটেন থেকে ফেরত পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিল সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

নিয়মভঙ্গ! অক্সফোর্ডের বাঙালি গবেষককে ব্রিটেন ছাড়ার নির্দেশ
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

লন্ডন: গবেষণার জন্য ভারতে ‘অতিরিক্ত’ সময় থেকেছেন। এর জন্য এক ভারতীয় ইতিহাসবিদকে ব্রিটেন থেকে ফেরত পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিল সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকের নাম মণিকর্ণিকা দত্ত (৩৭)। ইমেলে লেখা হয়েছে, ‘আপনাকে এই মুহূর্তে ব্রিটেন ছাড়তে হবে। স্বেচ্ছায় না গেলে ব্রিটেন সফরে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত সময় এদেশে থাকার জন্য নেওয়া হতে পারে আইনি পদক্ষেপ।’ এহেন ইমেল পেয়ে রীতিমতো হতবাক এই কৃতী বাঙালি গবেষক। ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আগামী তিনমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Advertisement

২০১২ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে এসেছিলেন মণিকর্ণিকা। উদ্দেশ্য ছিল, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। বর্তমানে অক্সফোর্ডেই ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণার কাজেই একাধিক ভারতে এসে বিভিন্ন শহরে ঘুরেছেন তিনি। ঘাঁটতে হয়েছে একাধিক নথি। মণিকর্ণিকার স্বামী গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌভিক নাহা। ব্রিটেনে থাকাকালেই সৌভিকের সঙ্গে পরিচয়, তারপর বিয়ে। বিয়ের পর স্পাউস ভিসা নিয়েছিলেন মণিকর্ণিকা। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনে রয়েছেন এই গবেষক দম্পতি। গত অক্টোবরে ভিসা ছাড়া ব্রিটেনে অনির্দিষ্টকাল বসবাসের (আইএলআর) জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। সৌভিকের আর্জি মঞ্জুর হয়েছে। তবে মণিকর্ণিকার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এতো কৃতী পড়ুয়াকে কেন ‘বিতাড়িত’ করছে কিয়ের স্টারমার প্রশাসন? এক্ষেত্রে রয়েছে ব্রিটেনের অভিবাসন আইনের শর্ত। নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটেনে ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বসবাসকারীরা সর্বোচ্চ ৫৪৮ দিন বিদেশে থাকতে পারেন। জানা গিয়েছে, মণিকর্ণিকা ৬৯১ দিন ব্রিটেনের বাইরে ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার তুলনায় ১৪৩ দিন বেশি। তার জেরেই এই পদক্ষেপ। 
গবেষণার পাশাপাশি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনে সহকারী অধ্যাপক মণিকর্ণিকা। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রিটেনে ১২ বছর ধরে থাকছি। এখানকার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। অক্সফোর্ডে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য এসেছিলাম। তারপর থেকেই এখানেই রয়েছি। কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটতে পারে।’ তাঁর স্বামী সৌভিকের গলাতেও একই সুর। তাঁর কথায়, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় আছি। প্রায়শই এবিষয়ে লেকচার দিতে হয়। খবর শুনেছি। কিন্তু নিজের জীবনে এমনটা হবে ভাবিনি।’ মণিকর্ণিকার আইনজীবী নাগা কান্দিয়া জানান, শিক্ষাগত প্রয়োজন ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর মক্কেলকে ভারতে যেতে হয়েছিল। তা না হলে তিনি গবেষণাপত্র শেষ করতে পারতেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ