সুতপা গুহ, রায়পুর; দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গেই শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠতে তৈরি আপামর বাঙালি। সেই আনন্দের ছোঁয়া ছত্তিশগড়জুড়েও। বাংলার প্রতিবেশী এই রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই রীতিমতো ধুমধাম করে উদ্যাপিত হয় ‘বাঙালি দুর্গাপুজো’। এমন নাম কেন? আসলে নবরাত্রি উপলক্ষ্যে ছত্তিশগড়ের যে সমস্ত প্যান্ডেল বা মন্দিরগুলিতে দেবী আরাধনা হয়, তা ‘নবরাত্রি দেবীর পুজো’ নামে পরিচিত। সেখানে দেবী দুর্গা আসনে একা অধিষ্ঠিত হন। অন্যদিকে, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে মা দুর্গা যেখানে স্বপরিবারে পূজিতা, তা ‘বাঙালি দুর্গাপুজো’ বা ‘কলকাতার দুর্গাপুজো’ নামে পরিচিত।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও রায়পুরের মানা এলাকায় রীতিমতো জাঁকজমকপূর্ণভাবে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা—সবকিছুই তৈরি করছেন বাংলার শিল্পীরা। গত দেড় মাস ধরে দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। এবারের বাজেট ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা। প্রতি বছর এই পুজোয় বাঙালিদের পাশাপাশি অবাঙালিদের ভিড়ও উপচে পড়ে। ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয় দেবীর আরাধনা। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে মহা ভাণ্ডারার আয়োজন করা হয়। পুজোর চারদিন মানা ক্যাম্পে বিশাল মেলারও আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল দাস জানান, আমাদের মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা তৈরি—সবেতেই থাকছে বাংলার কারিগর ও শিল্পীদের ছোঁয়া। রায়পুরের শংকরনগরের বাসিন্দা নিধি নায়েক জানান, নবরাত্রির পাশাপাশি আমরা ‘বাঙালি দুর্গাপুজো’র জন্যও গোটা বছর অপেক্ষা করে থাকি। বিশেষ করে প্রতিটি বাঙালি পাড়া বা কালীবাড়ির খিচুড়ি ভোগ আমাদের ভীষণ প্রিয়। আমাদের সংস্কৃতিতে সিঁদুর খেলা না থাকলেও দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। প্রতি বছর প্রতিবেশী বাঙালি মহিলারা এসে আমাদের সিঁদুর পরিয়ে দেন। ভালোবাসার এই সম্পর্ক আজীবন অটুট থাকুক, মায়ের কাছে এটুকুই চাওয়া। মানা ক্যাম্পের মণ্ডপ। -নিজস্ব চিত্র