সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ঘোষণা হয়ে গেল নির্বাচনি নির্ঘণ্ট। এবার আর আট দফায় নয়। মাত্র দু’ দফায় হবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। বাকি ১৪২টি আসনে নির্বাচন ২৯ এপ্রিল। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ভোট হবে এক দফায়। অসম-কেরল-পুদুচেরির ভোট ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুর ২৩ এপ্রিল। তবে পাঁচ রাজ্যেই ফল ঘোষণা একইদিনে—৪ মে। বাংলায় কেন একাধিক দফা? জানতে চাওয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের জবাব, ‘সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে, সবার সুবিধার্থেই গতবারের তুলনায় দফা কমানো হয়েছে।’
রবিবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই মুহূর্ত থেকে এই প্রত্যেকটি রাজ্যে কার্যকর হয়ে গিয়েছে আদর্শ নির্বাচনি বিধি। তবে ৪২ মিনিট ৫৫ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমারকে বাংলা নিয়েই সিংহভাগ প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। তিনি জানালেন, ‘কোনো বৈধ ভোটার ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হোক, তা কমিশন চায় না। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত। আর নির্বাচন আমাদের সবচেয়ে বড়ো গণতান্ত্রিক মহোৎসব। তাই প্রত্যেকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য। একইসঙ্গে প্রথম এবং তরুণ ভোটারদের বিশেষ করে বলছি, ভোট দিন।’
কিন্তু এসআইআরের ‘বিচারাধীন’ তালিকা? জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে শেষাবধি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁরা আর এবার ভোট দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকারের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো বিচারকরা দেখছেন। সেই অনুযায়ী প্রকাশ হবে অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) তালিকা। আর তা যুক্ত হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে। সেই তালিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। অতিরিক্ত তালিকায় যাঁরা যুক্ত হবেন, তাঁদেরও বৈধ ভোটার বলেই গণ্য করা হবে।’
কমিশনের এক কর্তা জানান, প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে। যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত নতুন করে সম্পূর্ণ নতুন ভোটার (ফর্ম-৬) হিসাবে আবেদন করতে পারবেন বলেই নিয়ম। কিন্তু বিচারাধীন তালিকার শুনানিতে বাতিল নথি সামনে রেখে আবেদন করলে নাম ওঠার সুযোগ কম। এবার তাঁরা আদালতে যাবেন, নাকি ভোটের পর ফের ‘সন্তোষজনক’ নথি দিয়ে আবেদন করবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগামী ২৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেখানেও এই বিষয়টি উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তারপর, অর্থাৎ ৩০ মার্চ শুরু হবে বাংলার মনোনয়ন পর্ব। চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার মনোয়ন পর্ব চলবে ২-৯ এপ্রিল।
এবারের ভোটে আর একটি নজরে পড়ার মতো বিষয় হল, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে শতায়ু ভোটারের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫৩। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। প্রথমবারের ভোটার ৫ লক্ষ ২৩ হাজার। ২০-২৯ বছর বয়সি যুব ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৩১ লক্ষ। বাংলায় এবার ভোট হবে ৮০ হাজার ৭১৯টি বুথে। তার মধ্যে শহরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৭০৮ টি, আর গ্রামাঞ্চলে ৬১ হাজার ১১। বাংলা তো বটেই, পাঁচ রাজ্যের প্রতিটি বুথেই হবে ওয়েবকাস্টিং। অর্থাৎ দিল্লি থেকে বসে কমিশন দেখতে পাবে, কোথায় কেমন ভোট হচ্ছে।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, স্রেফ পশ্চিমবঙ্গই নয়, পাঁচ রাজ্যের কোথাও সংঘর্ষ এবং প্ররোচনা বরদাস্ত করা হবে না। ভোট হবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে গতবার নির্বাচনে সংঘর্ষের সঙ্গে যাঁদের নাম জড়িয়ে রয়েছে, সেই অফিসারদের তালিকাও রাজ্যের থেকে চাওয়া হয়েছে। এদিন কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর ঘোষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘আদর্শ নির্বাচনি বিধি এখন কার্যকর হল। তার আগে ভোটমুখী সরকার কোনো ঘোষণা করতেই পারে। তবে বিধি চালু হওয়ার পর নয়।’