নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট জারি হয়ে যাওয়ার পরই বিভিন্ন মহলে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি কেন্দ্রে কাদের পদ্ম প্রতীক দেয় সেদিকে তাকিয়ে রাজ্যবাসী। কারণ, ২০২১ সালে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে কার্যত লেজেগোবরে হতে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। আজ বিজেপিতে যোগ দিয়ে কালই প্রার্থী হয়েছেন, এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। এবার সেই ভুল আর করতে চাইছে না কেন্দ্রের শাসক দল। এবার অনেক প্রার্থী তালিকা নিয়ে আরো সতর্ক বিজেপি। সূত্রের দাবি, বর্তমান বিধায়কদের প্রায় প্রত্যেকেই টিকিট পেতে চলেছেন। তবে বেশ কিছু বিজেপি প্রার্থী কেন্দ্র বদলের তদ্বির করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা বিবেচনায় রেখেছেন। বাকি ২২৫টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনো জট রয়েছে বিজেপিতে।
সূত্রের দাবি, প্রতিটি কেন্দ্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একাধিক নাম উঠে এসেছে। পার্টি, একাধিক এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) তরফে ভোটের কয়েকমাস আগে থেকে নিবিড় সমীক্ষা চলেছে। তাতে এলাকাবাসীর মতামতসহ একাধিক ইস্যুকে ভিত্তি করে পছন্দের প্রার্থীদের নাম উঠে এসেছে। সমস্যা হল, এই নামগুলি চূড়ান্ত, এটা নিশ্চিত নয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে নামের তালিকা ঘোষণা করা হয়। এসেক্ষেত্রে পার্টির সর্বোচ্চ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা অনুমোদিত হয়। তার আগে বেসরকারিভাবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি প্রদেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে খসড়া তালিকা তৈরি করেন। পাঁচ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রীয় বিজেপির সভাপতি হিসেবে নীতিন নবীনের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা। জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রে প্রাক্তন সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা ও অমিত শাহের মতামত পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা হতে চলেছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, আমাদের পার্টিতে কালীঘাটের সার্কাস হয় না। প্রতিটি পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে হয়। তাই প্রার্থী তালিকা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির বিরাট ভূমিকা নেই। তবে রাজ্য সভাপতির মতামত অবশ্যই নেওয়া হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী আটমাস ধরে ‘আইসিইউ’তে চলে গিয়েছেন। অর্থাৎ পার্টিতে তাঁর কোনো গুরুত্ব নেই। লোক দেখাতে পদে রেখে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য প্রদেশ সভাপতি হওয়ার পর আদি নেতা-কর্মীরা মূল স্রোতে ফিরতে শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় পুরানো মুখের আধিক্য থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন ওই নেতা।