Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জনসংযোগ বৃদ্ধিতে কর্মীদের কাছে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি, মুখ ফিরিয়েছে আমজনতা!

বাংলার আমজনতার সঙ্গে বিজেপি নেতা-নেত্রীদের জনসংযোগের ঘোরতর অভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার এই মর্মে দুষে গিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে।

জনসংযোগ বৃদ্ধিতে কর্মীদের কাছে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি, মুখ ফিরিয়েছে আমজনতা!
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার আমজনতার সঙ্গে বিজেপি নেতা-নেত্রীদের জনসংযোগের ঘোরতর অভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার এই মর্মে দুষে গিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে। এমনকী দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও জনসংযোগের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে গেরুয়া অক্ষে। এহেন আবহে এবার পার্টি কর্মী-দরদীদের সঙ্গে সরাসরি দরবার চালু করলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের আদি পার্টি অফিসে এই জনসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন দুপুরে শমীকের দরবারে প্রচুর মানুষ হাজির হয়েছিলেন। রাজ্য সভাপতিকে হাতের কাছে পেয়ে অনেকেই নিজেদের অভাব-অভিযোগ-আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেখানে শমীকবাবুর কাছে সংগঠন, জেলা কমিটি সহ একাধিক বিষয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ল। কর্মী-সমর্থকদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দিলেন তিনি। পাশাপাশি আগামীদিনে কীভাবে চলতে হবে, তার দিক নির্দেশ করেন রাজ্য সভাপতি। এ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সাধারণ দরবার বলে বিষয়টি দেখছি না। আমি নিয়মিত পার্টি অফিসে আসব। কর্মীদের সাথে দেখা করব, সহজ বিষয়।

Advertisement

যদিও দলের রাজ্য নেতাদের মত ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, দিলীপ ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দু’বছর একরকম ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একদল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চক্রব্যুহে ঢুকে পড়েন। সেই ঘেরাটোপ টপকে তাঁর কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ছিল। পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠরা দিলীপবাবুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্যের পরীক্ষা দিতেন। তারপর সুকান্ত মজুমদার জমানায় বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দলীয় কর্মীদের থেকে আরও দূরে সরে গেলেন। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়তি ওজন নিয়ে চলতেন তিনি। অন্যদিকে, গুটি কয়েক স্তাবক নিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই নেতাদের কথায়, রাজ্য বিজেপির ইতিহাসে সুকান্তবাবু প্রথম ব্যক্তি যিনি উত্তরবঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করতেন। স্ত্রী-দুই মেয়ের জন্য নিয়মিত বালুরঘাটের বাড়িতে যেতেন। দিল্লি-কলকাতা-বালুরঘাট করতে গিয়ে তাঁর হাতে সময় কম পড়ত। সেখানে শমীকবাবু সল্টলেকে থাকেন। অবিবাহিত হওয়ার পারিবারিক পিছু টান নেই। সবথেকে বড় কথা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা নেননি তিনি। ফলে তাঁর কাছে পৌঁছানো আরও বেশি সহজ। সবমিলিয়ে রাজ্য সভাপতির সঙ্গে পার্টির নিচুতলার তৈরি হওয়া দূরত্ব কমাতে চাইছেন রাজ্যসভার এমপি। যদিও শিয়রে ভোট। এখন এই টোটকা ঠিক কতটা কাজে দেবে, প্রশ্ন তুলছে দলেরই একাংশ!  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ