


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সল্টলেক থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিউটাউনের ফ্ল্যাটেই মারধর করে খুন করা হয় সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে? তারপর নীলবাতির গাড়িতে করেই লোপাট করা হয়েছিল দেহ? অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়ি চালক এবং বন্ধুকে জেরা করে কার্যত এমনই তথ্যের ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। তবে, সেই তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার ম্যাপিং করতে ধৃতদের নিয়ে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণও করবে। তদন্ত এবং জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে ছজন উপস্থিত ছিল। বিডিওর যোগ নিয়ে অভিযোগ এবং স্বীকারোক্তি পেলেও আরও প্রামাণ্য তথ্যও জোগাড় করছে পুলিস। এদিকে, এই ঘটনার তদন্তভার এবং অগ্রগতির জন্য বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল স্বপন কামিল্যাকে। নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে স্বপনবাবুর উপর নির্যাতন করা হয়। ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ অক্টোবর রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের হয় বিধাননগর দক্ষিণ থানায়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার বন্ধু তুফান থাপাকে গ্রেফতার করেছে। তার জেরা করেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। তাতে এই কাণ্ডে বিডিওর যোগ আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
কিছুদিন আগেই নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরের এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নেশার ঘোরে তিনি বিডিওর নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে ৫০০-৬০০ গ্রাম সোনা চুরি করে ছিলেন। সেই সোনা বিক্রি করেছিলেন স্বপনবাবুর দোকানে। ২৮ অক্টোবর বিডিও তাঁকে এবং স্বপনবাবুকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। তিনি পিঠে মারধরের দাগও দেখিয়েছিলেন। ওইদিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও স্বপনবাবুকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরদিন স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়! একই স্বীকারোক্তি তিনি পুলিশকেও জানিয়েছেন। তাঁর কথাগুলি
খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কারণ, ওই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিডিও সরাসরি এই খুনে যুক্ত! কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, খুনে তাদের যোগ মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।-ফাইল চিত্র