Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার গাড়িতে করেই দেহ লোপাট!

সোনা ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনে রাজগঞ্জের বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকারকে গ্রেফতার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা।

বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার গাড়িতে করেই দেহ লোপাট!
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও জলপাইগুড়ি: সোনা ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনে রাজগঞ্জের বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকারকে গ্রেফতার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ধৃত তৃণমূল নেতার গাড়িতে করেই সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ লোপাট করা হয়েছিল!

Advertisement

ওই তথ্য যাচাই এবং দেহ পাচারে গাড়িটি উদ্ধার করার জন্য বৃহস্পতিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে ধৃতের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন করা হয়। সরকারি পক্ষের আইনজীবী সাবির আলি জানিয়েছেন, আদালত ধৃতের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সজলকে। তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার -২ ব্লকের সভাপতি! বিডিওর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং এই রহস্য নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, প্রথম দিকে না-এলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের অফিসে আসেন প্রধান অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। তবে, সজলের গ্রেফতারে তাঁর মুখে এখনও কুলুপ। প্রশান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, আইনি বিষয়ে তিনি কিছুই বলবেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি কাজ করছি, আমাকে কাজ করতে দিন।’
অভিযুক্ত বিডিওর বিরুদ্ধে ইডি তদন্তের দাবি তুলেছেন রাজগঞ্জের ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বিডিওর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নয়ছয় হয়েছে। শুধু তুফান থাপা নয়, কালচিনি থেকে আরও কয়েকজন ‘পেটোয়া’ ঠিকাদার এনে সরকারি প্রকল্পের কাজ তিনি করাতেন বলে অভিযোগ।
এই রহস্যের তদন্তে রাজবংশি আবেগও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বঘোষিত ‘দাবাং’ বিডিও। দাবি করেন, রাজবংশি সমাজ থেকে তিনি বিডিও হয়েছেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। যদিও বিডিওর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজবংশি সমাজেরই বিশিষ্ট জনেরা। জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় সাফ জানান, ‘বিডিও আগে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন। তারপর রাজবংশি বলে পরিচয় দেবেন।’ এই পরিস্থিতিতে কেএলও প্রধান জীবন সিংহ রাজগঞ্জের বিডিওর পাশে দাঁড়ানোয় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেএলও প্রধানের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চান না জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূলের বিজয়চন্দ্র বর্মন। তাঁর কথায়, ‘কে, কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। বিডিওর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক না ভুল পুলিশি তদন্তেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দোষী হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে তাঁর।’ 
ধৃত ঠিকাদার তুফান থাপা বিডিও প্রশান্ত বর্মনের খুবই ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন অশোক চট্টোপাধ্যায় নামে এক ঠিকাদার। তিনি বলেন, ‘বিডিওর চেম্বারে তুফানের অবাধ যাতায়াত ছিল। বকেয়া টাকা না পেয়ে স্থানীয় ঠিকাদাররা যখন রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের বিভিন্ন কাজের টেন্ডারে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দিই, তখনই কালচিনি থেকে তুফানকে নিয়ে আসেন প্রশান্ত বর্মন। তুফানের মতো আরও কয়েকজন পেটোয়া ঠিকাদারকে এনে কাজ করাতেন তিনি।’ যদিও ধৃত তুফান এবং গাড়ি চালক রাজু ঢালি তাঁর ঘনিষ্ঠ নয় বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন বিডিও। 

সম্পর্কিত সংবাদ