Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০৩ বছরে পা, হাওড়ার দাসবাড়িতে ব্রিটিশ আমলের মন্দিরে নিত্য পুজো হয় সরস্বতীর

১০৩ বছরে পা, হাওড়ার দাসবাড়িতে ব্রিটিশ আমলের মন্দিরে নিত্য পুজো হয় সরস্বতীর
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কেরলের পানাচিক্কার সরস্বতী মন্দির, কর্ণাটকের শৃঙ্গেরি মন্দির, অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়ারাঙ্গল শ্রীবিদ্যা সরস্বতী মন্দির কিংবা রাজস্থানের পুষ্কর সরস্বতী মন্দির। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মন্দিরে দেবী সরস্বতীর আরাধনা প্রচলিত রীতি। তবে বাগদেবী এই বাংলায় পূজিতা হন মূলত শুক্লা পঞ্চমী তিথিতেই। ব্যতিক্রমী এক ছবি দেখা যায় মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলায়। গত ১০৩ বছর ধরে এখানে দাসবাড়ির সরস্বতী মন্দিরে নিত্যপুজো হয় দেবীর। মনষ্কামনা পূরণ করতে শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে ঢল নামে ভক্তদের। 
Advertisement
মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলা রোডের পাশেই একচিলতে গলি দিয়ে ঢুকলে পড়বে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো দাসবাড়ি। স্থানীয়রা ‘সরস্বতী মন্দিরের বাড়ি’ বলেই চেনেন। বাড়ির প্রাঙ্গণেই রয়েছে মন্দির। চূড়ায় শোভা পায় বীণার ভাস্কর্য। মন্দিরের ভিতরে পাথরের বেদির উপর অধিষ্ঠান করছে রাজস্থানের শ্বেতপাথরের তিন ফুটের প্রাচীন সরস্বতী মূর্তি। শোনা যায়, এই মন্দিরই নাকি পূর্ব ভারতের সবথেকে পুরনো সরস্বতী মন্দির। দাস পরিবারের সদস্যদের কাছে জানা গেল, বাড়ির পূর্বপুরুষ উমেশচন্দ্র দাসের চার ছেলে ছিল। ব্রিটিশ যুগ তখন। চার ছেলের সবাই উচ্চশিক্ষা ছাড়াও রাইফেল শ্যুটিং, হর্স রাইডিংয়ে গোল্ড মেডালিস্ট ছিলেন। বাড়িতে বাগদেবীর আশীর্বাদ বর্ষিত হতেই উমেশচন্দ্রবাবুর স্ত্রী স্বপ্নাদেশ পান। এরপর রাজস্থান থেকে সরস্বতীর মূর্তি বানিয়ে এনে ১৯২৩ সালের স্নানযাত্রার দিন দেবীকে এই বাড়িতে স্থাপনা করেন। আজও রীতি মেনে প্রতিদিন দু’বেলা মন্দিরে পুজো হয়। 
শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দাসবাড়িতে দেবীকে ভোগ হিসেবে ফল নিবেদন করা হয় খানিক অন্যভাবে। ফল ও মিষ্টির পাশাপাশি ১০৮টি মাটির সরা বা কুরিতে সম আয়তনের বাতাসা রেখে নিবেদন করা হয় বাগদেবীকে। রীতিমতো বরাত দিয়ে তৈরি করাতে হয় এই বাতাসা। বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের প্রবীণ সদস্য নীলাদ্রিভূষণ দাস, কমলেন্দু দাস, কৌশিক দাসরাই বজায় রেখেছেন পুজোর রীতিনীতি। তাঁরা বলেন, ‘এই পুজো আমাদের কাছে যেন দুর্গাপুজো। পুজোর দু’দিন অন্ন রান্না নিষেধ এই বাড়িতে।’ অন্যত্র বিয়ে হলেও সরস্বতী পুজোর দিনে নিয়ম করে বাড়িতে চলে আসেন শর্মিলা, কাকলিরা। বলেন, ‘ছোটবেলার মতো আজও রঙিন কাগজ কেটে শিকল বানিয়ে আমরাই মন্দির সাজাই। এই এক সপ্তাহ বাড়িটা আত্মীয়-স্বজনের ভিড়ে গমগম করে।’ এদিন সকালে দাসবাড়ির সরস্বতী মন্দিরের প্রাঙ্গণে পা দিতেই যেন মনে হল অকাল শারদ উৎসব। উলুধ্বনি আর ধুনোর গন্ধের সঙ্গে হাতেখড়ি দিতে আসা খুদেদের কলরবে গমগম করছে চত্বর। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অঞ্জলি দিতে ভিড় করেন বহু ভক্ত। জানা গিয়েছে, কেউ হয়তো চাকরি পেয়েছেন, আবার কারও সন্তানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ হয়েছে বাগদেবী সহায় হতেই। অনেকে শহরের বাইরে থেকেও এই সরস্বতী মন্দিরে পুজো দিতে আসেন এদিন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ