নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসি, মুখ দেখাই আর বাড়ি যাই! কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশেনে শতাধিক কাউন্সিলারের ভূমিকা কার্যত তেমনই! বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলারদের সিংহভাগের ক্ষেত্রেই এই প্রবণতা স্পষ্ট। পুর-অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তার প্রশ্নে কাউন্সিলারদের এই ধারাবাহিক অনীহা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
Advertisement
কলকাতা পুরসভার চলতি বোর্ডের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন চলছে। বর্তমান পুরবোর্ডের ৩৮ নম্বর মাসিক অধিবেশন এটি। মাসিক অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর, প্রস্তাব-পর্বে অংশ নেন কাউন্সিলাররা। তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন এবং প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জবাব দেন মেয়র বা সংশ্লিষ্ট মেয়র পারিষদ। পুরসভার সচিবালয়ের তথ্য বলছে, বাজেট ছাড়া অন্যান্য মাসিক অধিবেশেনে কাউন্সিলারদের উপস্থিতির হার মোটেও সন্তোষজনক নয়। অন্তত ১১৫ জন কাউন্সিলার গত তিন বছরে (বাজেট অধিবেশন ছাড়া) মাসিক অধিবেশনে একদিনও কোনও প্রশ্ন কিংবা প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। এঁদের মধ্যে দু’-তিনজন বাদ দিলে বাকি সবাই তৃণমূলের। স্বাভাবিকভাবেই কাউন্সিলারদের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুর-পরিষদীয় রাজনীতিতে।
অধিবেশনে কাউন্সিলাররা নিজেদের ওয়ার্ডের সমস্যা, মানুষের দাবিদাওয়া, অভাব-অভিযোগগুলি তুলে ধরার সুযোগ পান। পুরসভাকেন্দ্রিক যে কোনও গঠনমূলক প্রস্তাব দিতে পারেন। কোথায় কী কাজ করা দরকার, কোন কাজ কবে শুরু হবে, কোনও জটিলতা তৈরি হলে তাও তুলে ধরার সুযোগ থাকে অধিবেশনে। শুধু প্রশ্ন বা প্রস্তাব উত্থাপনই নয়, তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা কর্তৃপক্ষের ভাবনাচিন্তা কী, তা অধিবেশনেই স্পষ্ট করেন মেয়র, ডেপুটি মেয়র সহ অন্যান্য মেয়র পারিষদ। তাই অধিবেশনে যোগ না দিলে বা যোগ দিয়ে আগাগোড়া চুপ থাকলে শহরবাসীর কোনও লাভ হয় না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
তৃণমূলের তরফে মাঝেমধ্যে বলা হয়, পুর-অধিবেশনে সেভাবে বিরোধীদের প্রশ্ন কিংবা প্রস্তাব পাওয়া যায় না। যদিও দু’-তিন জন বাদ দিলে বাকি বিরোধী কাউন্সিলাররা কমবেশি প্রশ্ন বা প্রস্তাব রেখেছেন। কিন্তু শাসক দলেরই ১১০-এর বেশি কাউন্সিলার একটিও প্রশ্ন করেননি। বর্তমানে কলকাতার ১৪৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে তিনজন প্রয়াত হয়েছেন। বিরোধী ও নির্দল কাউন্সিলার মিলিয়ে রয়েছেন আটজন। বাকি ১৩৩ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই অধিবেশনে টুঁ শব্দটি করেননি। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, ‘এটা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা অনেকেই দীর্ঘকাল ধরে কাউন্সিলারের দায়িত্ব সামলাচ্ছি। পুর-অধিবেশনে অংশগ্রহণের আগ্রহ থাকা উচিত। অনেক কাউন্সিলার হয়তো মনে করেন, সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন বা প্রস্তাব আনলে তা দলের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তেমন ভাবার কোনও কারণ নেই। এলাকাবাসীর দাবি নিয়ে মুখর হওয়া দরকার। বহু সমস্যা বা জটিলতা অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।’ -ফাইল চিত্র
অধিবেশনে কাউন্সিলাররা নিজেদের ওয়ার্ডের সমস্যা, মানুষের দাবিদাওয়া, অভাব-অভিযোগগুলি তুলে ধরার সুযোগ পান। পুরসভাকেন্দ্রিক যে কোনও গঠনমূলক প্রস্তাব দিতে পারেন। কোথায় কী কাজ করা দরকার, কোন কাজ কবে শুরু হবে, কোনও জটিলতা তৈরি হলে তাও তুলে ধরার সুযোগ থাকে অধিবেশনে। শুধু প্রশ্ন বা প্রস্তাব উত্থাপনই নয়, তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা কর্তৃপক্ষের ভাবনাচিন্তা কী, তা অধিবেশনেই স্পষ্ট করেন মেয়র, ডেপুটি মেয়র সহ অন্যান্য মেয়র পারিষদ। তাই অধিবেশনে যোগ না দিলে বা যোগ দিয়ে আগাগোড়া চুপ থাকলে শহরবাসীর কোনও লাভ হয় না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
তৃণমূলের তরফে মাঝেমধ্যে বলা হয়, পুর-অধিবেশনে সেভাবে বিরোধীদের প্রশ্ন কিংবা প্রস্তাব পাওয়া যায় না। যদিও দু’-তিন জন বাদ দিলে বাকি বিরোধী কাউন্সিলাররা কমবেশি প্রশ্ন বা প্রস্তাব রেখেছেন। কিন্তু শাসক দলেরই ১১০-এর বেশি কাউন্সিলার একটিও প্রশ্ন করেননি। বর্তমানে কলকাতার ১৪৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে তিনজন প্রয়াত হয়েছেন। বিরোধী ও নির্দল কাউন্সিলার মিলিয়ে রয়েছেন আটজন। বাকি ১৩৩ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই অধিবেশনে টুঁ শব্দটি করেননি। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, ‘এটা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা অনেকেই দীর্ঘকাল ধরে কাউন্সিলারের দায়িত্ব সামলাচ্ছি। পুর-অধিবেশনে অংশগ্রহণের আগ্রহ থাকা উচিত। অনেক কাউন্সিলার হয়তো মনে করেন, সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন বা প্রস্তাব আনলে তা দলের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তেমন ভাবার কোনও কারণ নেই। এলাকাবাসীর দাবি নিয়ে মুখর হওয়া দরকার। বহু সমস্যা বা জটিলতা অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।’ -ফাইল চিত্র



