সংবাদদাতা, ডোমকল: সাধারণত বর্ষায় পাট চাষের মরশুমে বা শীতের ঘন কুয়াশার সুযোগে সীমান্তে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার হয়। গ্রীষ্মে পাচারের ঘটনা অনেকটাই কমে আসে। এই সময়কে মূলত সিরাপ পাচারের ‘অফ সিজন’। কিন্তু এবার গ্রীষ্মেও তা ব্যাপকহারে চলছে। একের পর এক জায়গায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হওয়ায় মাথাব্যথা বাড়ছে পুলিস-প্রশাসনের।
সাধরণত মরশুম অনুযায়ী পাচারের ধরণ বদলায় সীমান্তে। যেমন শীতে ঘন কুয়াশাকে ঢাল করে সীমান্তে বাড়ে সিরাপ পাচার। তেমনই বর্ষায় উঁচু পাট গাছের আড়ালে কিংবা জলপথে বিভিন্ন উপায়ে দৃশ্যমানতার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে চলে সিরাপ পাচার। মুর্শিদাবাদের রানিনগর, সাগরপাড়া, জলঙ্গি সীমান্তের বিস্তীর্ণ কাঁটাতারবিহীন করিডর দিয়ে বছরের বিভিন্ন মরশুমে কৌশল বদলে এভাবেই বজায় থাকে ওপার বাংলায় পাচার। কোনও মরশুমে ব্যবসায় ভাটা পড়লে তা পরের মরশুমে ঠিক লাভ তুলে নেয় পাচারের কারবারিরা। কিন্তু প্রতিবছরই গ্রীষ্মের সময়ে সিরাপ পাচার অনেকটাই কমে আসে। এই সময়ে ওপার বাংলায় সিরাপের চাহিদাও থাকে তুলনামূলক কম। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্প্রতি সীমান্ত এলাকাগুলিতে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ঢুকছে বলে খবর পুলিস সূত্রের। যোগীরাজ্য থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ওই সিরাপ ঢুকছে ডোমকল মহকুমায়। কিন্তু একসঙ্গে এত সিরাপ ঢোকায় এখন ভাবাচ্ছে পুলিস-প্রশাসনকে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডোমকলের গড়াইমারী হাসপাতাল সংলগ্ন দু’টি বেড়ার বাড়ির মধ্যে থেকেই থরে থরে সাজানো অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল প্রায় দু’কোটি টাকার সিরাপ। ওই ঘটনার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই রানিনগর থানা এলাকাতেও উদ্ধার হয়েছিল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। এছাড়াও এপ্রিল ও মার্চ মাসে বিভিন্ন জায়গায় সিরাপ উদ্ধার হয়েছে।
কিন্তু কী কারণে অফসিজনে এত সিরাপ পাচারের জন্য রাজ্যে ঢুকছে, সেটাই ভাবাচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাদের। এত বিপুল সিরাপ কি পরের মরশুমে পাচারের জন্যই মজুত করা হচ্ছে ? নাকি সীমান্তে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নতুন উপায় বাতলে ফেলেছে পাচারকারীরা? এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন প্রশাসনিক কর্তারা।