নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা শপিংমলগুলির বেশিরভাগেরই কোনও পার্কিংজোন নেই। রাস্তার উপর বাইক, চারচাকা রেখে ক্রেতারা শপিংমলে কেনাকাটা করছেন। সারাবছর এই অবস্থা চললেও পুজোর মুখে শহরে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। এব্যাপারে পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে শহরবাসী প্রশ্ন তুলছে।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, যানজট মোকাবিলায় ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। যাতে অন্যের অসুবিধা না হয়, তা দেখার জন্য পুরসভার তরফে সকলের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আমরা শহরে নিয়মিত টহল দিচ্ছি। ভিড় এলাকায় বাইক নিয়ে টহল দেওয়া হচ্ছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে। পুজোর মুখে শহরে লোকজনের যাতায়াত বেশি হয়। সেই কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে পুজোর দিনগুলিতে কড়াভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে। তখন দর্শনার্থীদের সমস্যা হবে না বলেই আমরা আশা করছি।
উল্লেখ্য, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এমনিতেই বাঁকুড়া শহরের একাধিক ঘিঞ্জি জায়গা রয়েছে। সেখানকার রাস্তাঘাট এমনিতেই সঙ্কীর্ণ। তারউপর বর্তমানে শহরে একাধিক শপিংমল গজিয়ে উঠেছে। বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে শপিংমলগুলি খোলা হয়েছে। ফলে সেখানে যানবাহন রাখার কোনও ব্যবস্থা নেই। কেনাকাটা করতে আসা লোকজন শপিংমলের সামনে রাস্তার উপর বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন রেখে দিচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ সেগুলি দাঁড়িয়ে থাকার ফলে ওইসব রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অন্যান্য গাড়ির চালক, পথচারীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পুজোর মুখে এই সমস্যা প্রকট হয়েছে। শহরের বাজারগুলিতেও এখন ভালো ভিড় হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন সেখানে বাজার করতে আসছেন। তাঁরাও বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন নিয়ে আসছেন। সেইসব গাড়িও তাঁরা যত্রতত্র রেখে দিচ্ছেন। তার ফলে সমস্যা হচ্ছে। শহরের নতুনচটি, কাটজুড়িডাঙা এলাকায় সবচেয়ে বেশি শপিংমল, বড় পোশাকের দোকান রয়েছে। সেখানে মূল রাস্তাকেই কার্যত পার্কিং লট বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। চকবাজার এলাকাতেও কাপড়ের দোকানগুলির সামনে একই চিত্র লক্ষ্য করা গিয়েছে।
একই অবস্থা শহরের নার্সিংহোমগুলির সামনেও। স্কুলডাঙা, জেলখানা রোড, ফিডার রোডের পাশে থাকা নার্সিংহোম ও প্যাথলজি সেন্টারের সামনের রাস্তায় সার দিয়ে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগার সংলগ্ন দু’টি নার্সিংহোমের সামনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন রুট থেকে আসা বাস ওই রাস্তা দিয়ে গোবিন্দনগর স্ট্যান্ডে যায়। নার্সিংহোম দু’টির সামনে বিপজ্জনক বাঁক ও রাস্তার মোড় রয়েছে। ফলে সেখানে রাস্তার উপর যানবাহন থাকার কারণে অফিস টাইমে ব্যাপক যানজট হচ্ছে। জেলা আদালত সংলগ্ন একটি নার্সিংহোমের সামনে একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তা সত্ত্বেও পার্কিং সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ফিডার রোডের এক নার্সিংহোম মালিক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে বাইক ও পিছনের দিকে চারচাকা গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। রাস্তার উপর যাতে রোগী পরিজনরা গাড়ি না রাখেন, তা দেখার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের বলা হবে। -নিজস্ব চিত্র