নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রমশ অনলাইন লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে কার্ডভিত্তিক, ইউপিআই বা ই-ওয়ালেট নির্ভর লেনদেন। সেসব ক্ষেত্রে সুরক্ষার প্রশ্নে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল এতদিন। এদিকে অনলাইন প্রতারণা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সুরক্ষা কবচ আরো জোরালো করার দাবি ছিল দীর্ঘদিন। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গ্রাহকের লেনদেন সুরক্ষিতভাবে হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ওটিপির মতো একটিমাত্র পদ্ধতি ব্যবহার করলে হবে না। দু’টি ধাপে সেই সুরক্ষা যাচাই করা হবে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে নয়া নিয়ম চালু হবে। ব্যাংক, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে এই নিয়মের আওতাভুক্ত হতে হবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক বা ব্যবহারকারীরা এখনো অন্ধকারে। কারণ, এখনো ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক সংস্থাগুলি ঠিক করে উঠতে পারেনি, কোন উপায়ে আরো একটি ধাপে সুরক্ষা যাচাই হবে। অথচ মার্চ শেষ হতে আর কয়েকদিন বাকি। স্বভাবতই এপ্রিলের শুরু থেকে নয়া নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
এক্ষেত্রে আরবিআই তিনটি সুযোগ খোলা রেখেছে। প্রথমটি হল, এমন একটি সুরক্ষা, যা গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেমন, পাসওয়ার্ড বা পিন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে থাকতে পারে হার্ডওয়্যার টোকেন (যেমন স্মার্ট কার্ড), সফটওয়্যার টোকেন (যেমন ওটিপি, ক্যাপচা ইত্যাদি)। এগুলি গ্রাহক নিজেই পেতে পারেন। তৃতীয় অপশন হিসাবে রয়েছে আধারের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ। এর মধ্যে যেকোনো একটি উপায়কে সুরক্ষাকবচ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। তবে আরবিআই স্পষ্ট করেছে, দু’ধাপে যাচাইকরণের মধ্যে একটি ধাপে এমন কোনো ব্যবস্থা রাখতে হবে, যা প্রতিটি লেনদেনে আলাদা বা ইউনিক হয়। যেমন ওটিপি ব্যবস্থা, যা প্রতিটি লেনদেনে আলাদা। ঝুঁকি এড়াতে লেনদেন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে কিছু সুযোগও করে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। তারা বলেছে, যদি প্রয়োজন হয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি লেনদেনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান বা লোকেশন, তাদের লেনদেন সংক্রান্ত ইতিহাস, যে-যন্ত্রের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে, সেটির সম্পর্কেও নজরদারি চালাতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যদি প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা রোখা যেতে পারে এগুলি পরখ করার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে দু-ধাপে সুরক্ষা যাচাইয়ের পরও বাড়তি কোনো সুরক্ষা যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। সার্বিকভাবে সুরক্ষা যাচাইকরণের ক্ষেত্রে ডিজি লকারে রাখা তথ্য ব্যবহার করা যায় কি না, বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে আরবিআই।