


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: এসআইআর আতঙ্ক চেপে বসেছে বাংলার আনাচে কানাচে। ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, নাগরিকত্ব হারাতে হবে না তো? আর তাই নথি খোঁজার হিড়িক শুরু হয়েছে সর্বত্র। ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য লাইন তো পড়ছেই, সঙ্গে চলছে ঢালাও সংশোধনও। এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়েই সক্রিয় হয়ে উঠেছে অন্য এক চক্র। ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট কাজে লাগিয়ে নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার ব্যবসা খুলে বসেছে তারা। মূলত বাংলাদেশিরা এই ঘটনাক্রমে সামনের সারিতে থাকলেও, নাম পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তানি নাগরিকদের। মোটা টাকার বিনিময়ে হুবহু আসলের মতো দেখতে বিয়ের রেজিস্ট্রির জাল সার্টিফিকেট পাইয়ে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু চক্র। এই ইস্যুতে অভিযোগও দায়ের হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন থানায়।
একজন ভারতীয়কে বিয়ে করে যদি কোনও বিদেশি নাগরিক বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা সহ ভারতে পাঁচ বছর থাকেন (পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সাত বছর), সেই ব্যক্তি ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৫(১)(সি) ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্বের জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে শুধু মাত্র স্পেশাল ম্যারেজ আইন বা ইন্ডিয়ান ফরেন ম্যারেজ আইনে বিয়ে হলেই এই আবেদন করা যায়। যদি সামাজিকভাবে বা অন্য কোনও আইনের ভিত্তিতে বিয়ে হয়ে যায়, তখন স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট কার্যকর হবে না। ফলে দীর্ঘদিন সামাজিক বিয়ে সেরে এদেশে থেকে গেলেও, অনেকের পক্ষেই আর স্পেশাল ম্যারেজ আইনে রেজিস্ট্রি সম্ভব হচ্ছে না। আর এই সুযোগেই রমরমিয়ে চলছে অর্থের বিনিময়ে ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার কারবার। সেই শংসাপত্রের ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে নাগরিকত্বের আবেদন যাচ্ছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে। এমনিতে আবেদন পেলে কেন্দ্র তা যাচাইয়ের জন্য পাঠায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে। সেখান থেকে যায় সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে। ইদানীং, পুলিসকে দিয়ে যাচাইয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু জেলা প্রশাসনের (মূলত সীমান্তবর্তী এবং কলকাতার আশপাশ) তরফে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ম্যারেজেসের অফিসে সার্টিফিকেট পাঠিয়ে তা যাচাই করতে বলা হচ্ছে। সেখানেই নজরে আসছে ‘গলদ’। তাঁরা দেখছেন, ম্যারেজ সার্টিফিকেটগুলি এতটাই নিখুঁত যে, খালি চোখে বোঝাই যাচ্ছে না! একমাত্র রাজ্যের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে টনক নড়ছে। কারণ, ওই ক্রমিক নম্বরে কোনও শংসাপত্রই ইস্যু হয়নি। এমন একাধিক ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট পাওয়া গিয়েছে, যাতে স্ত্রীর ঠিকানা বাংলাদেশের।
৪ আগস্ট কলকাতার এন্টালি থানায় একটি অভিযোগ দাযের করেছেন এক ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। জানানো হয়েছে, ১৮২ দিনের বেশি ভারতে থাকলে যে আধার কার্ড দেওয়া হয়, তা দেখিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ আইনে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন এক মহিলা। তিনি যে আসলে পাকিস্তানের নাগরিক, তা সম্পূর্ণ গোপন করে গিয়েছেন তিনি। সেই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নাগরিকত্বের আবেদন করতেই বিষয়টি ধরা পড়ে। এমন আরও অভিযোগ কিন্তু ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে।