Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শান্তার ভুয়ো আধার-এপিক, মমতাজউদ্দিনের অফিসে জাল নথিপত্রের ‘ভাণ্ডার’

বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালকে আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে মমতাজউদ্দিনের অফিসই হল জাল নথি তৈরির ‘ভাণ্ডার’।

শান্তার ভুয়ো আধার-এপিক, মমতাজউদ্দিনের অফিসে জাল নথিপত্রের ‘ভাণ্ডার’
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালকে আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে মমতাজউদ্দিনের অফিসই হল জাল নথি তৈরির ‘ভাণ্ডার’। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান, সিএমওএইচ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ যে কোনও সরকারি কর্তার জাল স্ট্যাম্প ও সিলমোহর মজুত রয়েছে ওই ভাণ্ডারে। যে নথিতে যার স্ট্যাম্প লাগবে সেখানে সেটাই দেওয়া হতো। যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের। এভাবেই আধার, প্যান ভোটার, জন্মের শংসাপত্র, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে সমস্ত ধরনের ভুয়ো নথি তৈরির কারবার চালাচ্ছিল মমতাজউদ্দিন। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্তার স্ট্যাম্প, সিলমোহর উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

বাংলাদেশি বিমানসংস্থার ‘কেবিন ক্রু’ শান্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেমারি থেকে আধার ও ভোটার কার্ড তৈরির জন্য কলকাতার এক মিডলম্যানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই মধ্যস্থতাকারী তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় মমতাজউদ্দিনের। মেমারির ওই ব্যক্তি তাঁকে আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করে দিয়েছিল। তারপরই গ্রেপ্তার হয় মমতাজউদ্দিন। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সে অনেক দিন ধরেই ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরির ব্যবসা করছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনার জন্য তার একাধিক এজেন্ট রয়েছে। ওপার বাংলার বাসিন্দা ছাড়াও এখানকার যে সমস্ত ব্যক্তির নথি নেই, তাদের সেগুলি বিক্রি করে পয়সার বিনিময়ে। স্থানীয়  পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস. স্কুল, সিএমএইচের দপ্তর ঘুরে ঘুরে কী ধরনের স্ট্যাম্প, সিলমোহর ও প্যাড ব্যবহার হয়, সেটি জোগাড় করে। হুবহু একই জিনিস বানিয়ে ফেলে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বার্থ সার্টিফিকেট, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, আয়ের শংসাপত্র, ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য পঞ্চায়েত প্রধানের সই নকল করে স্ট্যাম্প ও সিল দিত মমতাজউদ্দিন। স্কুল লিভিং সার্টিফিকেটের জন্য সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নকল স্ট্যাম্প ব্যবহার করত। আবার কাস্ট বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তৈরি বা প্রশাসনিক বিভিন্ন সার্টিফিকেট তৈরির জন্য বিডিওর জাল স্ট্যাম্প  ব্যবহার করা হতো। তদন্তকারীরা বলছেন, এমনকী সিএমএইচের জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ইস্যু করেছে মেডিকেল সার্টিফিকেট। কোন আধিকারিক কখন কোথায় রয়েছেন, সেই সম্পর্কে তার কাছে সর্বশেষ তথ্য থাকত। যাতে শংসাপত্রে কোনও ভুল না থাকে। এগুলির ভিত্তিতে সে আধার, ভোটার কার্ড তৈরি করত।  এভাবে সে জাল নথি তৈরির কারবার চালাচ্ছিল। পাশাপাশি জাল ভারতীয় নথির বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছে বলে খবর। তার মাধ্যমে কতজন বাংলাদেশি ভুয়ো আধার, ভোটার, পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সার্টিফিকেট পেয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ