


ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: সর্বসাধারণের জন্য বসন্ত উৎসবে বিশ্বভারতী আগেই না করেছে। সেই পথেই হেঁটে পরিবেশ রক্ষার্থে বনদপ্তরও এবছর বসন্ত উৎসব আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করল। এই মর্মে খোয়াই হাটের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার লাগিয়ে মানুষজনকে জানানো হচ্ছে। ফলে, এবছর দোলের দিন বিশ্বভারতী ও খোয়াই হাটে বসন্ত উৎসবের রবীন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন না পর্যটক ও জনসাধারণ। এমনকী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আবির খেলা, গাড়ি পার্কিং, ভিডিওগ্রাফি ও ড্রোন ওড়ানোতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনদপ্তর। এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। সিদ্ধান্তকে হাট কমিটির সদস্য ও হস্তশিল্পীরা স্বাগত জানালেও হতাশ হয়েছেন পর্যটকরা।
পৌষমেলার পাশাপাশি বসন্ত উৎসব বিশ্বভারতীর অন্যতম বড় ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। একটা সময় পর্যন্ত এই দু’টি উৎসবে যোগদান করতে দেশ-বিদেশে নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম হতো। কিন্তু, বছর বছর পর্যটকদের ভিড় মাত্রাছাড়া হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তার প্রেক্ষিতে করোনা আবহের পর থেকে ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব উদযাপন করছে কর্তৃপক্ষ। এ বছরও সেই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত। এবছর দোল পূর্ণিমা আগামী ১৪ মার্চ। কিন্তু ওই দিনের পরিবর্তে, তার তিনদিন আগে ১১ মার্চ পাঠভবনের গৌরপ্রাঙ্গণে বসন্ত উৎসব হবে। তবে, করোনাকালে বিশ্বভারতী বসন্ত উৎসব আয়োজন না করলেও পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড জামবুনিতে ও এক নম্বর ওয়ার্ড খোয়াই হাটে রবীন্দ্র ভাবধারায় বসন্ত উৎসব আয়োজন করে চমক দিয়েছিল। গত বছরেও এই উপলক্ষে খোয়াই হাটে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। হাট শুরুর পর থেকে এমনিই সোনাঝুরির হাট পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা থাকে। তাই সারাবছর জঙ্গলে নোংরা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে, গতবার দোলের দিন প্রবল শব্দ দূষণের পাশাপাশি রং, আবির, প্লাস্টিক, আবর্জনায় ভীষণভাবে দূষিত হয়েছিল জঙ্গলের পরিবেশ। জঙ্গল সংলগ্ন জীববৈচিত্র্যে যার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, অন্যান্য বছরে তুলনায় এবছর হাটের পাশে অবস্থিত বল্লভপুর অভয়ারণ্যের ঝিলে পরিযায়ী পাখি অনেক কম আসে। সেই বিষয়টিতে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল বনদপ্তর। তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এবছর বসন্ত উৎসব আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করল বনদপ্তর।
বোলপুর বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মন বলেন, ‘সারা বছর খোয়াই হাটে যে পরিমাণ পর্যটক আসে, তাতে জঙ্গল ও পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হস্তশিল্পীদের আর্থিক বিষয়টির কথা মাথায় রেখে এখনও হাট চালু রয়েছে। তবে, দোলের সময় বিগত বছরগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ে জঙ্গল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেজন্য এবছর বসন্ত উৎসব আয়োজন সহ রং খেলা, গাড়ি পার্কিং, ভিডিওগ্রাফি ও ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর অন্যথা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত হতাশ কলকাতা থেকে আগত পর্যটক সুপ্রীতি মুখোপাধ্যায় ও অরিন্দম রায়। তাঁরা বলেন, ‘রবীন্দ্র ঐতিহ্যে ছেদ পড়ল।’ যদিও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে হাটের শিল্পীরা।