Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০ বছর দেশ রক্ষা করলেও বিচারাধীন বাদুড়িয়ার আজাদ

এসআইআরে বিচারাধীনের তালিকায় রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকের নাম। নাম আজাদ আলি। তিনি বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন আজাদ। গত অক্টোবর মাসে অবসর নেন তিনি।

৩০ বছর দেশ রক্ষা করলেও বিচারাধীন বাদুড়িয়ার আজাদ
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বসিরহাট: এসআইআরে বিচারাধীনের তালিকায় রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকের নাম। নাম আজাদ আলি। তিনি বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন আজাদ। গত অক্টোবর মাসে অবসর নেন তিনি।

Advertisement

ভোটার তালিকায় এখনও নাম না ওঠায় চিন্তিত আজাদ আলি। তিনি বলেন, ৩০ বছর জওয়ান হিসাবে দেশের সেবা করেছি। ১৯৯৯ সালে অপারেশন বিজয়, ২০০১ সালে অপারেশন পরাক্রম এবং ২০২৫ সালে অপারেশন সিন্দুর-এ আমি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছি। যা নিয়ে আমি রীতিমতো গর্বিত। তিন বছর জম্মু-কাশ্মীরে কাজ করেছি। গালোয়ানের পরবর্তী সময়ে ইন্দো-চীন সীমান্তে কিছুদিন পোস্টিং ছিলাম।
তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এসআইআরের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো নাগরিক, যাঁরা রাষ্ট্রের সেবা করেছি, তাঁদের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। গত ১৫ নভেম্বর বিএলওর কাছে আমি ফর্ম জমা দিয়েছিলাম। সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রতিলিপিও দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও আমার নাম ‘বিচারাধীন’ থেকে গিয়েছে, যা নিশ্চিতভাবেই দুঃখের। রামচন্দ্রপুরের স্থানীয় বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, সুবেদার সাহেব নিপাট ভদ্রলোক। আমরা তাঁকে সম্মান করি। ওর তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’-এর তালিকায়, বুঝতে পারছি না।
বাদুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন বলেন, যাঁরা দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেন, তাঁদের ‘বিচারাধীন’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সংগঠনের তরফে অমিয়কুমার মণ্ডল বলেন, এমন ঘটনা অনেক জায়গায় ঘটেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি, যাতে প্রাক্তন সেনাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজনে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হোক। বাদুড়িয়ার শিক্ষিকা মানবী ভট্টাচার্য বলেন, দেশের দেড়শো কোটি মানুষের নিরাপত্তা যাঁরা সুনিশ্চিত করেন, যাঁদের ভরসায় দেশবাসী রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অধিকার কারও নেই। তাঁদের যদি গণতান্ত্রিক অধিকার চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কী জবাব দেব!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ