‘আনন্দ মরা নেহি! আনন্দ মরতে নেহি!’—১৯৭১ সালে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় হিন্দি ছবি ‘আনন্দ’-এ অমিতাভ বচ্চনের এই সংলাপ আজও সিনেপ্রেমী মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। যার ৫৪ বছরের মাথায় এসেও ‘আনন্দ’কে নতুন জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখলেন নাট্যমঞ্চের কুশীলবরা। চিকিৎসা বিজ্ঞান ক্যান্সার আক্রান্ত ‘আনন্দ’কে বাঁচাতে পারেনি। কিন্তু জীবনের এই গল্প শিখিয়েছিল, অদম্য লড়াই আর ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলে বন্ধু হওয়া যায়। সেই ধারা বজায় রেখে এতদিন পরে এসেও নাটকের রঙ্গমঞ্চ নিজের মৌলিক সত্তার মধ্যে দিয়ে ‘আনন্দ’কে দর্শকদের সামনে নতুন করে উপস্থাপনা করল। হল ভর্তি দর্শক হাসলেন, কাঁদলেন। একাত্ম হয়ে গেলেন চরিত্রদের সঙ্গে।
কালজয়ী সিনেমা ‘আনন্দ’ অবলম্বনে সম্প্রতি কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে মঞ্চস্থ হল একটি নাটক। যার নামও ‘আনন্দ’। নাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। নির্দেশনায় অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। দৃশ্য সজ্জায় দেবাশিস রায়। বড় পর্দায় অমিতাভ বচ্চন এবং রাজেশ খান্নার অভিনয় যদি মনে দাগ কেটে থাকে, তাহলে নাটকেও পার্থ ভৌমিক এবং ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় নাট্য শিল্পে নয়া বিনিয়োগ।
বিনিয়োগ- ই বটে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি মহল্লায় রাজনৈতিক নেতা-সাংসদ পার্থ ভৌমিককে অহরহ মিটিং, মিছিল করতে দেখা যায়। সেই তিনিই নাটকের মঞ্চে রোগী দেখছেন। চিকিৎসক ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে। লম্বা, সুঠাম চেহারা, গলায় আইকনিক ডায়লগ। সিনেমায় অমিতাভ বচ্চন যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, নাটকের মঞ্চে সেটাই করতে গিয়ে সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে দর্শকের ভাবাবেগে আঘাত করবে বলে জানতেন পার্থ। কিন্তু চরিত্রের উপস্থাপনায় নিজেই নিজেকে ছাপিয়ে গেলেন ‘বাবুমশাই’!
আর নাটকের মঞ্চজুড়ে রাজেশ খান্নার চরিত্রে ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় আলোড়ন ফেলে দেওয়ার মতো। প্রশংসার দাবি রাখেন দেবযানী সিংহ। ভবিষ্যতে সফল অভিনেত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরণ সেনগুপ্ত, কস্তুরী চক্রবর্তীর উপস্থাপনা চমৎকার।
আবহসঙ্গীত, আলোকসজ্জা, মঞ্চ পরিকল্পনা, সংলাপ— সবমিলিয়ে ‘আনন্দ’ নাটক মঞ্চস্থ করে স্টার মার্কস পেয়েছে ‘নৈহাটি ব্রাত্যজন’। তারা এই বার্তাই দিয়ে গেল, ‘বাবুমশাই! জিন্দেগি লম্বি নেহি, বড়ি হোনি চাহিয়ে।’
রাহুল চক্রবর্তী