Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬

পুরীতে কিশোরীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের নৃশংসতা, অধরা দুষ্কৃতীরা

বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল ১৫ বছরের কিশোরী। হঠাৎই তার পথ আটকায় তিন বাইক আরোহী যুবক। কিছুক্ষণ দু’পক্ষের মধ্যে বচসা চলে।

পুরীতে কিশোরীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের নৃশংসতা, অধরা দুষ্কৃতীরা
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ১১:০৭
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল ১৫ বছরের কিশোরী। হঠাৎই তার পথ আটকায় তিন বাইক আরোহী যুবক। কিছুক্ষণ দু’পক্ষের মধ্যে বচসা চলে। তারপর কিশোরীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। জ্বলন্ত অবস্থায় দিশাহারা হয়ে ছুটতে থাকে মেয়েটি। কিছু দূরে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। শনিবার সাতসকালে হাড়হিম করা এমনই নৃশংসতার সাক্ষী রইল বিজেপি শাসিত ওড়িশার পুরী জেলা। স্থানীয়রাই আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। তাঁরা বয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভুবনেশ্বর এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁকে এয়ারলিফ্ট করে দিল্লি এইমসে নিয়ে যেতেও রাজ্য সরকার তৈরি বলে জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সূত্রের খবর, একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনেই গায়ে আগুন দিয়েছিলেন এক ছাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। তার রেশ না কাটতেই পুরীর বলঙ্গা থানা এলাকায় শনিবারের এই নৃশংস ঘটনা। এর ফলে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকী তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। কী কারণে এই ঘটনা, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে। যদিও এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিসের।

Advertisement

রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা শিশু ও নারীকল্যাণমন্ত্রী প্রভাতী পারিদা জানান, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। কিশোরীকে এইমস ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যের এই ঘটনার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দল লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী কোথায় গেল আপনার বেটি বাঁচাও স্লোগান? মহিলা কমিশন কোথায় লুকোচ্ছে? এটা চূড়ান্ত গাফিলতি। প্রধানমন্ত্রী আপনার হাতে রক্ত লেগে আছে। ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক বলেন, প্রায় প্রত্যেক দিনই এধরনের ঘটনা নজরে আসছে। আসলে সরকারি ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। 
কিন্তু কী কারণে ওই কিশোরীর উপর এই হামলা, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরাও। পারিবারিক  বা অন্য কোনও শত্রুতার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। প্রণয়ঘটিত কোনও কারণ নেই বলেও দাবি তাঁদের। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, বন্ধুর বাড়িতে বই দিতে গিয়েছিল কিশোরী। ফেরার সময় রাস্তা আটকায় দুষ্কৃতীরা। কিশোরীর হাত-পা সহ শরীরের একাধিক জায়গা পুড়ে গিয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ