ভুবনেশ্বর: বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল ১৫ বছরের কিশোরী। হঠাৎই তার পথ আটকায় তিন বাইক আরোহী যুবক। কিছুক্ষণ দু’পক্ষের মধ্যে বচসা চলে। তারপর কিশোরীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। জ্বলন্ত অবস্থায় দিশাহারা হয়ে ছুটতে থাকে মেয়েটি। কিছু দূরে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। শনিবার সাতসকালে হাড়হিম করা এমনই নৃশংসতার সাক্ষী রইল বিজেপি শাসিত ওড়িশার পুরী জেলা। স্থানীয়রাই আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। তাঁরা বয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভুবনেশ্বর এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁকে এয়ারলিফ্ট করে দিল্লি এইমসে নিয়ে যেতেও রাজ্য সরকার তৈরি বলে জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সূত্রের খবর, একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনেই গায়ে আগুন দিয়েছিলেন এক ছাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। তার রেশ না কাটতেই পুরীর বলঙ্গা থানা এলাকায় শনিবারের এই নৃশংস ঘটনা। এর ফলে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকী তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। কী কারণে এই ঘটনা, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে। যদিও এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিসের।



