নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্দুকের নল তাক করা ছিল তাঁরই দিকে। শুধুমাত্র উপস্থিত বুদ্ধির জেরে প্রাণে বাঁচলেন দেবাশিস ভট্টাচার্য। বেঁচে গেলেন তাঁর স্ত্রী ও পুত্রও। পহেলগাঁওয়ে মঙ্গলবারের জঙ্গিহানায় মৃত্যু মিছিল থেকে নিজেদের আলাদা করতে পারলেন তাঁরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্দুকের নল তাক করা ছিল তাঁরই দিকে। শুধুমাত্র উপস্থিত বুদ্ধির জেরে প্রাণে বাঁচলেন দেবাশিস ভট্টাচার্য। বেঁচে গেলেন তাঁর স্ত্রী ও পুত্রও। পহেলগাঁওয়ে মঙ্গলবারের জঙ্গিহানায় মৃত্যু মিছিল থেকে নিজেদের আলাদা করতে পারলেন তাঁরা।
মৃত্যু উপত্যকার হাড় হিম করা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবাশিসবাবু। তাঁরা কথায়, আমরা যখন নিজেদের মতো করে ঘুরছিলাম, আচমকাই গুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমাদের কাছাকাছি একজন স্থানীয় ফটোগ্রাফার ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে, তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এমন গুলির আওয়ার এখানে শোনা যায়। প্রচুর বাঁদর এখানে পর্যটকদের উৎপাত করে। তাদের ভয় দেখাতেই বনদপ্তর থেকে গুলির আওয়াজ করে বাঁদর তাড়ানো হয়। কিন্তু ক্রমশ বাড়তে থাকে গুলির শব্দ। দেবাশিসবাবু জানান, তাঁর ছেলে প্রথম দেখে, একজন বন্দুকবাজ সামনে দিয়েই হেঁটে যাচ্ছে। আচমকাই সে একজন পর্যটককে গুলি করে মারে। ছেলে এরপর ইশারা করতেই তাঁরা তিনজন কিছুটা দূরে একটি গাছতলায় আশ্রয় নেন। একে সেখানে প্রায় ১৫জন পর্যটক জড়ো হন। সবাই গাছতলায় শুয়ে পড়েন। কয়েকজন কলমা পড়তে শুরু করেন। তাঁদের দেখাদেখি দু’একটি শব্দ উচ্চারণ করতে শুরু করেন দেবাশিসবাবুও। আতঙ্কে তাঁর কণ্ঠ বুজে আসছিল। তা সত্ত্বেও তিনি উচ্চারণ করে যান কলমা। সেখানে সেই সময় হাজির হয় ওই জঙ্গি। পর্যটকদের মধ্যে একজন তখন মাটিতে শুয়ে পড়ার তোড়জোড় করছিলেন। তাঁকে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করে ওই জঙ্গি। তারপরই আচমকাই গুলি চালায়। মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন সেই পর্যটক। তাঁর পা এসে লাগে দেবাশিসবাবুর কাঁধে। পোশাকে লেগে যায় রক্তের দাগ। এরপর বন্দুকের নল উঁচিয়ে পিছন থেকে দেবাশিসবাবুর দিকেই তাক করে সে। তখনও কলমা উচ্চারণ করে যাচ্ছিলেন তিনি। উর্দুতে সে জিজ্ঞাসা করে, ‘কী বলছ তুমি’? দেবাশিসবাবু কোনও উত্তর না দিয়ে তখনও কলমা আওড়ে যাচ্ছিলেন। আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে এরপর গোটা পর্যটক দলের সামনে কয়েকবার পাক খায় মুখ ঢাকা সেই বন্দুকবাজ। তার চোখগুলো দেখা যাচ্ছিল। সে যতক্ষণ ছিল, কটকট করে নজর রাখছিল চার দিকে। এরপর সেই গাছতলা থেকে সরে যায় সে। অন্তত ২০ মিটার দূরত্বে যেতেই গাছতলা থেকে সরে পর্যটকের দল ছুটতে শুরু করে। সামনেই ছিল ফুট দশেকের একটি বেড়া। সেটি কোনও মতে টপকাতে সক্ষম হন অনেকেই। এরপর অচেনা পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় ঘোড়ার খুরের চিহ্ন দেখে দেখে একটি জনবসতিতে চলে আসেন দেবাশিসবাবুরা। সেখানেই মেলে মোবাইলের টাওয়ার, বৈসারণ ভ্যালিতে যা ছিল না। মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় গাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গে। সেখানেই এক কাশ্মীরি মহিলা ফোনে ড্রাইভারকে বুঝিয়ে দেন, কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। সেই মতো ফের পাহাড়ি পথ ধরে ছুটতে শুরু করেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় ছোটার পর দেখা মেলে ঘোড়ার মালিকদের। সেখান থেকেই সোজা শ্রীনগরের দিকে রওনা হন দেবাশিসবাবুরা। তাঁর কথায়, পালিয়ে আসার সময় গোটা পথ জুড়ে কোথাও কোনও নিরাপত্তারক্ষীর দেখা মেলেনি।