Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪০ আশ্রম হস্টেলে স্পেশাল কোচিং ক্লাস চালুর উদ্যোগ

৪০ আশ্রম হস্টেলে স্পেশাল কোচিং ক্লাস চালুর উদ্যোগ
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়ার ৪০টি আশ্রম হস্টেলে পড়ুয়াদের স্পেশাল কোচিং ক্লাস করানোর জন্য রাজ্য সরকার ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করল। জেলা অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা পর্বের আগে কোচিং ক্লাস চালু ছিল। কিন্তু, তারপর থেকে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় সবকটি আশ্রম হস্টেলে আবাসিকদের স্পেশাল কোচিং ক্লাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাতে প্রায় আড়াই হাজার আদিবাসী পড়ুয়া বিশেষ শিক্ষাদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনিয়ে অভিভাবকমহলে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই কারণে পুনরায় তা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি সপ্তাহে উক্ত খাতে মোট ১কোটি ৩১লক্ষ ৮৫হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সন্টু দাস বলেন, আশ্রম হস্টেলে কোচিং ক্লাস নতুন করে  চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। শীঘ্রই ক্লাস চালু করে দেওয়া হবে। 
দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জেলায় মোট ৪২টি আশ্রম হস্টেল রয়েছে। তার মধ্যে দু’টিতে কোনও আবাসিক নেই। বাকি ৪০টি হস্টেলে মোট ২হাজার ৪৮০জন আবাসিক রয়েছে। বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তারা স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মূলত দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই সেখানে থাকে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাদের স্কুলের উপরেই নির্ভর করতে হয়। তার বাইরেও হস্টেলে থাকাকালীন যাতে তাদের উপযুক্ত গাইড দেওয়া হয় এবং পড়াশোনার মান আরও বৃদ্ধি করা হয়, সেই জন্য রাজ্য সরকারের তরফে অধিকাংশ আশ্রম হস্টেলে স্পেশাল কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ইংরেজি, অঙ্ক, মাতৃভাষা এবং কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। তার জন্য চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের তরফে তাঁদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এছাড়াও পড়ুয়াদের খাতা পেনও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু, করোনার পর থেকে উক্ত খাতে অর্থ বরাদ্দ না আসায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। কোচিং ক্লাস পুনরায় চালুর জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু, এতদিন তা চালু করা হয়নি। তবে সম্প্রতি এনিয়ে দপ্তরের তরফে সবুজ সংকেত আসে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে পুনরায় তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রপিছু বার্ষিক ৫হাজার ৪০০টাকা বরাদ্দ হয়েছে।   
অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, আমরা গরিব মানুষ। টাকা খরচ করে বাইরে টিউশনি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। সেই জন্য আশ্রম হস্টেলে ছেলে মেয়েদের রেখেছি। স্কুলের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি কম্পিউটার ও অন্যান্য বিষয়ে স্পেশাল কোচিং ক্লাস করানোয় তাদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন হচ্ছিল। কিন্তু, করোনার পর থেকে কোনও কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তা আবার চালু হবে। এজন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় বর্তমানে চালু থাকা ৪০টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাইপুরে ১০টি আশ্রম হস্টেল রয়েছে। এছাড়াও রানিবাঁধে আটটি, তালডাংরা ও ছাতনায় চারটি করে, হীড়বাঁধে তিনটি, সারেঙ্গা, বিষ্ণুপুর ও গঙ্গাজলঘাটিতে দু’টি করে এবং শালতোড়া, ওন্দা, পাত্রসায়র, খাতড়া ও কোতুলপুরে একটি করে রয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ