


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বর্ষার কারণে এখনই সম্ভব নয় স্থায়ী মেরামতি। অথচ, রাজ্যজুড়ে একাধিক রাস্তা ভরে গিয়েছে খানাখন্দে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে পথ দুর্ঘটনা। এদিকে, দুর্গাপুজোর বাকি একমাসের কিছু বেশি। তার আগে সব রাস্তার স্থায়ী মেরামতি সম্ভব নয়। ফলে ইট বিছিয়ে অস্থায়ীভাবে খানাখন্দ বোজানোই এখন একমাত্র উপায়। এজন্য দপ্তরের বাজেটের ‘নন প্ল্যান হেড’ বা পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতের টাকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এভাবে করা কাজ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি রাস্তার কিছু অংশের খানাখন্দ বুজিয়েই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকার টাকা খরচ করলেও তৃণমূল স্তরে মানুষের ক্ষোভ মেটে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি কাজ সেরে ফেলা হয়।
এই সমস্যায় ইতি টানতে এবার আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহারের পথে হাঁটছে রাজ্য। এখানে একটি রাস্তার সম্পূর্ণ আয়তন থেকে গভীরতা সহ খানাখন্দের মাপও দিয়ে দেবে এআই। এই রিপোর্ট পূর্তদপ্তরের নিজস্ব ‘সমীক্ষা’ পোর্টালের ‘রোড কন্ডিশন মনিটরিং সিস্টেম’ মডিউলে জমা পড়বে। এটা করা হবে খানাখন্দে ভরা রাস্তার ভিডিও ফুটেজ তুলে। সেই ভিডিওয় লাল এবং সবুজ রঙ দিয়ে খানাখন্দগুলি দাগিয়ে দেবে এআই। বেশি গর্ত হলে লাল, তুলনায় কম গভীর গর্ত সবুজ রঙের রিং দিয়ে দাগিয়ে দেবে এআই। সঙ্গে সঙ্গে তার আয়তনও বলে দেবে। সেই অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা তৈরি এবং অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এখানেই শেষ নয়, খানাখন্দ মেরামতির পর ফের একইভাবে এআই ভিডিওর মাধ্যমে কাজের গুণমান সরাসরি নবান্ন থেকে যাচাই করা হবে।
রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আগে এমন কোনও বন্দোবস্ত ছিল না। ফলে সম্পূর্ণভাবে কর্মীদের তৈরি করা ‘ম্যানুয়াল’ রিপোর্টের উপরেই নির্ভরশীল ছিল নবান্ন। এছাড়া বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ ছিল। এবার এই কাজের গুণমান এবং স্বচ্ছতা, দুই বৃদ্ধি পাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাজুড়ে পূর্তদপ্তরের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা। এর মধ্যে আট হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির পাঁচ বছরের মধ্যে, বা ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ (ডিএলপি)-এর মধ্যে রয়েছে। ফলে এর মেরামতির দায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার। এছাড়া ডিএলপির মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তার সাময়িক মেরামতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।