


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: এখনই ধরে নিয়ে আসুন হিস্ট্রি শিটার (যার দীর্ঘ ও ধারাবাহিক অপরাধের রেকর্ড বা ইতিহাস রয়েছে)। যেভাবেই হোক তাদের থানায় নিয়ে আসতেই হবে। বিভিন্ন থানায় গিয়ে এমনই নির্দেশ পুলিশ পর্যবেক্ষকরা দিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। কোনো অফিসার কাউকে না পেয়ে খালি হাতে ফিরলে প্রশ্নে জেরবার হতে হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের ভয়ে রীতিমতো তটস্থ থানার অফিসাররা। সঙ্গে সঙ্গে হিস্ট্রি শিটারদের ধরে আনতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে তাঁদের। আর অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসার পর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হচ্ছে, ভোটের দিন গোলমাল পাকালে বা ভোটারদের আটকালে তার ফল ভুগতে হবে অনেকদিন পর্যন্ত।
ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা যাতে কোনো ধরনের গোলমাল পাকাতে না পারে সেজন্য আগেভাগেই তাদের ধরে হেফাজতে রাখার নির্দেশ এসেছে পুলিশের কাছে। এর সঙ্গে কমিশন গুরুত্ব দিচ্ছে হিস্ট্রি শিটারদের বিষয়ে। কারণ এরাই ভোটের দিন ভোটারদের ভয় দেখায়, বাধা দেয় বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে জেনেছেন কমিশনের কর্তারা। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা সেই কারণেই থানার অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন, হিস্ট্রি শিটারদের ডেকে পাঠিয়ে সর্কে করতে হবে।
তারপরেও তাঁদের নজরে এসেছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের অনেক থানাই হিস্ট্রি শিটারদের ডেকে পাঠাতে গড়িমসি করছে। তাদের থেকে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো থানা কাগজকলম ঠিক রাখতে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে হিস্ট্রি শিটারদের সতর্ক করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং নোটিস গিয়েছে। বাস্তবে কিছুই হয়নি বলে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা জানতে পারছেন। এ নিয়ে রীতিমতো অসন্তুষ্ট তাঁরা। এরপরই কৌশল বদলে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা নিজেরা থানায় পৌঁছে হিস্ট্রি শিটারদের তালিকা দেখে নিচ্ছেন। মূলত বছরপাঁচেক ধরে এলাকা কাঁপানো হিস্ট্রি শিটাররাই তাঁদের টার্গেট। তারপর অফিসারদের নির্দেশ দিচ্ছেন এখনই ডেকে এনে থানায় তাঁর সামনে হাজির করতে হবে।
সেই নির্দেশ পেয়েই তড়িঘড়ি হিস্ট্রি শিটারদের ডেরায় বা বাড়িতে ছুটছে পুলিশের টিম। কিছু ক্ষেত্রে হিস্ট্রি শিটার পাওয়া গেলেও অনেকসময় আবার তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। অপরাধীকে থানায় আনার পর পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সামনে হাজির করাতে হচ্ছে। তাদের নাম, ঠিকানা জানার পর জানতে চাওয়া হচ্ছে, তারা এতদিন বাইরে রয়েছে কীভাবে। ওইসঙ্গে ভোটের দিন সামান্যতম কোনো অভিযোগ এলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। গুলি চালানো বা ভোটারদের বাধাদানের অভিযোগ হলে তাদের পরিণতি যে ভয়ংকর হবে, সেটা শুনিয়ে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষক হয়ে ভিন রাজ্য থেকে আসা পুলিশকর্তারা। আর কোনো থানা সঙ্গে সঙ্গে হিস্ট্রি শিটার ধরে আনতে না পারলে কী কারণে পাওয়া গেল না, মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কেন, কোথায় পালিয়ে থাকতে পারে, এই সংক্রান্ত একাধিক তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।