


কাঠমাণ্ডু: প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর দেশের হাল ধরেছে সেনাবাহিনী। অশান্ত নেপালে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। গণ বিক্ষোভের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই বার্তা দেন সেনাপ্রধান। এই ভাষণের সময় তাঁর পিছনে ছিল নেপালের জাতীয় পতাকা। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে নেপালের প্রথম রাজা পৃথ্বীনারায়ণ শাহের ছবি। এই ঘটনা জল্পনা উস্কে দিয়েছে। তবে কি আবার রাজতন্ত্রে ফিরছে নেপাল?
রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কম রক্ত ঝরেনি ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। ১৯৯৬ সালে দেশজুড়ে জনযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড। পরবর্তীতে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন তিনি। যদিও ছাত্র-যুবকদের বিক্ষোভের আঁচ থেকে বাদ যায়নি তাঁর বাড়িও। ভাঙচুর চালানো হয়েছে বাড়িতে। প্রচণ্ডর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেন মাওবাদী যোদ্ধারা। নেপালি রাজার ছত্রছায়ায় থাকা তৎকালীন সরকারও তাঁদের বিদ্রোহকে দমাতে পারেনি। কার্যত গৃহযুদ্ধের আকার নেয় মাওবাদীদের সঙ্গে সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর লড়াই। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রাণ যায় অন্তত ১৭ হাজার মানুষের। অবশেষে ২০০৬ সালে মাওবাদীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বাধ্য হয় সরকার। শান্তি চুক্তিতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বলা হয়। ২০০৮ সালের ২৮ মে সরকারিভাবে যবনিকা পড়ে ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের। সংবিধানে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে গণতন্ত্র শব্দটি যুক্ত করা হয়। সেইসঙ্গে হিন্দু রাষ্ট্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হয় নেপাল। ২০০৮ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয় প্রচণ্ড। গত ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী থেকে দেশবাসী। কোনও সরকারই পাঁচ বছরের মেয়াদপূর্ণ করতে পারেনি। এহেন অস্থিরতা থেকে দেশকে বাঁচাতে রাজতন্ত্রের দাবি তুলেছে নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ‘রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দেওয়া হোক রাজার জন্য। ফিরে আসুক রাজতন্ত্র। ফের নেপাল হয়ে উঠুক হিন্দু রাষ্ট্র।’ এরই প্রেক্ষাপটে প্রথম রাজার ছবি রেখে সেনাপ্রধানের ভাষণ ঘিরে শোরগোল পড়েছে। উল্লেখ্য, পৃথ্বীনারায়ণ ১৭২৩-১৭৭৫ পর্যন্ত নেপালের রাজা ছিলেন। নেপালে গণতন্ত্রের সূচনা হওয়ার আগে শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। এরইমধ্যে তিনি চলতি আন্দোলনে প্রাণহানি ও হিংসার নিন্দা করেছেন। বিদ্রোহ পরবর্তী নেপালের প্রধান কে হবেন-এনিয়ে চর্চার মধ্যে উঠে এসেছেন জ্ঞানেন্দ্র।