নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার এক বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীকে বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিসের এসটিএফ। তার নাম চাঁদ আলি শেখ। সে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আনত বিহার থেকে। তারপর সেসব চালান করত বিভিন্ন জায়গায়। এই কুকীর্তিতে বিহারের কার কার সঙ্গে তার সঙ্গে যোগ রয়েছে, ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এমনকী তার মাধ্যমে কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে আর্মস গিয়েছে কি না সেটারও খোঁজ চলছে।
বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৮ দুষ্কৃতীকে দিন ১৫ আগে কলকাতার আনন্দপুর এলাকা থেকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করে। তারা কলকাতায় ডাকাতি করার মতলবে গাড়ি চড়ে আসছিল। কিন্তু তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কোথা থেকে পেল, তা জানতে ধৃতদের জেরা শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, তারা বর্ধমানের বাসিন্দা চাঁদের কাছ থেকে সেসব পেয়েছে। চাঁদ অনেকদিন ধরেই তাদের বেআইনি অস্ত্র সরবরাহ করছে। তার কাছ থেকে আরও অনেকেই আগ্নেয়াস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এরপরই তার খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু তাকে পাওয়াই যাচ্ছিল না। এসটিএফের কাছে খবর আসে যে, সে নিজের এলাকায় ফিরেছে। এসটিএফ অফিসাররা সোমবার রাতে বর্ধমানে যান। একেবারে ডেরায় হানা দিয়েই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
চাঁদকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, সে অর্ডার মতো বিহার থেকে বর্ধমানে আগ্নেয়াস্ত্র আনছে। তার সঙ্গে সেখানকার একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর যোগাযোগ রয়েছে। এক একটি অস্ত্র বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়। আর্মস তারই মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। সেখানকার একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ী তার খদ্দের। তবে মাল পৌঁছচ্ছে বেশ কয়েকহাত ঘুরেই। একইসঙ্গে আরও অনেকে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনছে। তারপর বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছচ্ছে সেসব। তবে তার মাধ্যমে আর্মস শুধু দুষ্কৃতী বা অপরাধীদের কাছে যাচ্ছে নাকি কিছু উঠছে জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের হাতেও। চলছে তার খোঁজখবর। কারণ স্লিপার সেলের মাথারা এই ধরনের অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র কিনে থাকে। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পেতে তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করে, জানার চেষ্টা চলছে তার মোবাইল ঘেঁটে।