নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে এল পুলিশের। সেই ফুটেজ ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর একাই হেঁটে ঝিলের দিকে গিয়েছিলেন ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডল। সেখানেই রয়েছে শৌচালয়। সেদিকে যাওয়ার সময়েই পা পিছলে ঝিলে অনামিকা পড়ে গিয়েছিলেন, এমনটাই তদন্তকারীদের অনুমান। এরপরেই তিনজন ছাত্রীকে সেদিকে দৌড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। ফুটেজ অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ড পরই ‘হেল্প হেল্প’ চিৎকার করতে করতে তাঁদের ফিরে আসতে দেখা যায়। পুলিশ মনে করছে, ঝিলের জলে অনামিকা পড়ে যাওয়ার শব্দ পেতেই ছুটে যায় বাকি ছাত্রীরা। তাঁদের জেরা করে পুলিশের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঝিলের দিকে একাই হেঁটে গিয়েছিলেন অনামিকা।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে আসার পরই যাদবপুরে ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের গন্ধ ম্লান হতে শুরু করেছে তদন্তকারীদের কাছে। যদিও এতে সন্তুষ্ট নন মৃতার বাবা অর্ণব মণ্ডল। জল্পনার মধ্যে মৃত ছাত্রীর বাবা অর্ণববাবু মেয়ের মৃত্যুর পিছনে রহস্য আছে বলে মনে করছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও শুক্রবার তিনি থানায় লিখিত জানিয়ে এসেছিলেন— ‘কোনও অভিযোগ নেই’। শনিবার নিমতার বাড়িতে অর্ণববাবু বলেন, ‘শুক্রবার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। অভিযোগ জানানোর পরিস্থিতি ছিল না। তবে এখনও নানান প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। মিষ্টু (অনামিকা) কীভাবে জলে পড়ল? মেয়ে নিজে থেকে তো আর জলে ঝাঁপ দেবে না! মদ্যপানের যে কথা উঠছে, সেটা আমি কেন, মিষ্টুকে চেনে, এমন কেউই একথা বিশ্বাস করবে না। মেয়ের জুতো ও চশমা পাওয়া যায়নি। কলেজের এক অধ্যাপক হাসপাতালে এসে আমাকে মেয়ের ব্যাগ দিয়েছিলেন। সেই ব্যাগে মেয়ের মোবাইল, হেডফোন, চুলের ক্লিপ ছিল। ওই প্রফেসরকে আমি চিনি না। তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ব্যাগ কোথায় পেলেন? তিনি বলেছিলেন, মেয়ের এক বন্ধু দিয়েছে। সন্দেহজনক সেই বন্ধুটি কে? কীভাবে সে মেয়ের ব্যাগ পেল, এটা আমরা জানতে চাই।’ তবে এই পর্বে সেই বাম ছাত্র সংগঠন, যারা আর জি কর ইস্যুতে তাঁবু খাটিয়ে প্রতিবাদী নাচ-গানা করে বাজার গরম করেছিল, তাদের কোনও খোঁজ নেই কেন, সেটাই আশ্চর্যের!