Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘আমেরিকান? কোনওভাবেই না!’ ট্রাম্পের হুমকি নস্যাৎ গ্রিনল্যান্ডের

: ‘ভালো কথায় কাজ না হলে কড়া ব্যবস্থা।’ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফের চড়া সুর ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুক্রবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের পছন্দ হোক বা না হোক, ওয়াশিংটন পদক্ষেপ করবে।’

‘আমেরিকান? কোনওভাবেই না!’ ট্রাম্পের হুমকি নস্যাৎ গ্রিনল্যান্ডের
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নুক ও ওয়াশিংটন: ‘ভালো কথায় কাজ না হলে কড়া ব্যবস্থা।’ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফের চড়া সুর ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুক্রবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের পছন্দ হোক বা না হোক, ওয়াশিংটন পদক্ষেপ করবে।’ মার্কিন হুমকির মুখে পালটা হুংকার দিচ্ছে বরফে ঢাকা ‘সবুজ দ্বীপে’র বর্তমান নিয়ন্ত্রক ডেনমার্কও। গ্রিনল্যান্ডের অধিকার নিয়ে এই দুই ন্যাটো সদস্যের রেষারেষি অব্যাহত। উত্তেজনা প্রশমনে ইউরোপ এখনও ঐক্যবদ্ধভাবে কোনও বিবৃতি দিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু উত্তর মেরু অঞ্চলের যে ভূখণ্ডের দখল ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, সেখানকার বাসিন্দাদের মতামত কী? গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলি সমস্বরে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। 

Advertisement

খনিজ-সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দখলে আমেরিকার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এব্যাপারে স্বশাসিত দ্বীপভূমির পার্লামেন্টের পাঁচটি রাজনৈতিক দল যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আমেরিকার হতে চাই না। ড্যানিশও হতে চাই না। আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হিসাবেই বাঁচতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীর দ্বারাই নির্ধারিত হবে। এবিষয়ে অন্য কোনও দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। চাপের মুখে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ এ তো গেল রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য। গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ মানুষ কী চাইছেন? রাজধানী নুকে ৪৮ বছরের মৎস্যজীবী জুলিয়াস নিয়েলসেনের প্রতিক্রিয়া, ‘আমেরিকান? কোনওভাবেই না! আমরা বহু বছর পরাধীন থেকেছি। নতুন করে আর কারও উপনিবেশে পরিণত হতে চাই না।’
১৯৫৩ সাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে ড্যানিশ উপনিবেশ ছিল গ্রিনল্যান্ড। তারও ২৬ বছর পর পায় স্বশাসন বা হোম রুলের অধিকার। আর এখন ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করা উচিত কি না, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। টেলিকম ক্ষেত্রে কর্মরত পিৎসি মারি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন, এটা ভাবতে সত্যিই ভালো লাগে। কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করা উচিত।’ গ্রিনল্যান্ডে যে জোট সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে, তারাও স্বাধীনতা নিয়ে তড়িঘড়ি কোনও পদক্ষেপ চাইছে না। তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে ২৪.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া একমাত্র বিরোধী দল নালেরাক মনে করে, ডেনমার্কের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সম্পর্ক বিচ্ছেদই সঠিক পদক্ষেপ হবে। সাংসদ জুনো বার্থেলসেন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমরা বহু বছর ধরে লড়াই করেছি। এবার স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ