বেজিং, ৮ এপ্রিল: আমেরিকার কাছে কিছুতেই মাথা নত করব না, এমনটাই মনোভাব চীনের। তাই আমেরিকার পণ্যের উপর প্রস্তাবিত ৩৪ শতাংশ শুল্ক লাগু করছেই বেজিং। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে সেই শুল্ক লাগুর কথা রয়েছে। সেই ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে চীন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসার কিছুদিন বাদেই কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের উপর শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। চীনের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। তারপরে কিছুদিন আগেই নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণা করতে গিয়ে চীনের পণ্যের উপর আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যার ফলে বিশ্ব বাজারে জোর ধাক্কা খাচ্ছে চীনের পণ্যগুলি। বেজিংয়ের একাধিক কোম্পানির শেয়ারের দর পড়ছে।
আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে তাঁরা। কিন্তু ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করতে রাজি নয় চীন। বেজিংও পাল্টা আমেরিকার পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছে। আর সেই কারণেই বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। গতকাল, সোমবার তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দেন, চীন যদি প্রস্তাবিত ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে তাহলে বিপদে পড়বে। আগামী কাল, বুধবার ৯ এপ্রিল মাঝরাত থেকেই চীনের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৫৪ শতাংশ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সত্যি যদি এই পদক্ষেপ নেন তাহলে বিশ্ব বাজারে ধাক্কা খাবে বাণিজ্য।
চীনের উপর লাগু করা মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০৪ শতাংশে। যার ফলে আমেরিকার বাজার থেকে কার্যত মুছে যেতে পারে চীনে উৎপাদিত পণ্যগুলি। যদিও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছে না বেজিং। এই বিষয়ে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘আমেরিকা ভুলের উপর ভুল করছে। তাঁদের ব্ল্যাকমেল করার চরিত্রটি প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদি আমেরিকার এই মনোভাবই থাকে তবে আমরাও শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’