Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিয়ালদহে বাংলাদেশির থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ

জিআরপির হাতে হেনস্তার শিকার হলেন চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশি নাগরিক। ভয় দেখিয়ে তাঁর থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

শিয়ালদহে বাংলাদেশির থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জিআরপির হাতে হেনস্তার শিকার হলেন চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশি নাগরিক। ভয় দেখিয়ে তাঁর থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। শিয়ালদহ স্টেশনে কর্তব্যরত দুই জিআরপি কর্মীর বিরুদ্ধে মিন্টু মল্লিক নামে ওই বাংলাদেশি নাগরিক শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম এবং পুলিস সুপার শিয়ালদহ ডিভিশনের কাছে মেইল করে অভিযোগ জানিয়েছেন। কী ঘটেছিল ঘটনাটি? মিন্টু মল্লিকের লেখা অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে তাঁর। চিকিৎসা করানোর জন্য বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি এসেছিলেন এই দেশে। কেবল এখানকার বসবাসকারী আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করছিলেন হুগলির ভগবতীপুর এলাকার বাসিন্দা তাঁরই আত্মীয় আখতার মল্লিকের একটি সিম। অভিযোগ, ২৪ জুন তিনি শিয়ালদহ স্টেশন এসে পৌঁছন গেদেগামী লোকাল ট্রেন ধরার জন্য। তারপর গেদে স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর। অভিযোগ, টিকিট কাউন্টারে আচমকা তাঁর কাছে আসেন দুজন জিআরপি কর্মী। যাদের মধ্যে একজন সাদা পোশাকে থাকলেও অন্যজন খাঁকি পোশাকেই ছিলেন। মিন্টু মল্লিকের দাবি, তাঁর থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ওই দুই পুলিস কর্মী ধমক দিতে থাকেন তাঁকে। কোথা থেকে তিনি ভারতীয় সিম পেলেন তা জানতে চান। নিজের আত্মীয়ের সিমের কথা বললেও ওই দুই পুলিসকর্মী নাকি রেহাই দেননি। উল্টে বিভিন্নভাবে তাঁকে ভয় দেখিয়ে টাকা চাইতে থাকেন। এরপর তাঁর পকেটে থাকা ভারতীয় এবং বাংলাদেশি টাকা মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা নাকি হাতিয়ে নেন ওই দুই পুলিসকর্মী। এরপর কার্যত ‹নিঃস্ব› করে তাঁকে জোর করে তুলে দেওয়া হয় গেদেগামী লোকালে। এরপর ওই ট্রেনে গেদে পৌঁছে মিন্টু মল্লিক বিষয়টি জানান গেদে ল্যান্ড পোর্ট সোসাইটিকে। সোসাইটির সভাপতি দীনবন্ধু মহলদার সহ সোসাইটির বাকি সদস্যদের আবেদনে তিনি ই মেইল করে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম এবং পুলিস সুপার শিয়ালদহ ডিভিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে সোসাইটির সভাপতি দীনবন্ধু মহলদার বলেন, শিয়ালদহ ডিভিশনে জিআরপি মাঝেমধ্যেই এই ধরনের অত্যাচার করে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। আমরা বিভিন্ন যাত্রীদের থেকে এই অভিযোগ শুনি। কিন্তু অধিকাংশ লোকই অভিযোগ করতে পারেন না। তবে এই ব্যক্তি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন। মূলত ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে নেওয়া হয়েছে ওঁর থেকে। চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশিদের উপর এই ধরনের অত্যাচার কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের জিআরপির পুলিস সুপার জে মের্সি বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ করে দেখছি। যদি কোথাও এই অভিযোগ দায়ের হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ