অর্ক দে, কলকাতা: সকাল থেকে দৌড়ে বেড়ালেন একজন। আর একজন ‘শান্তি’-তে ঘুরলেন বুথে বুথে। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণের দিনে তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীর এমন ব্যস্ততার সাক্ষী থাকল শ্যামপুকুর। একদিকে, বুথে বুথে ঘুরে একের পর এক অভিযোগ করে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। অন্যদিকে, যাবতীয় পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলালেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। তৃণমূল-বিজেপির অভিযোগ-পালটা অভিযোগে সরগরম হয়ে রইল ভোটের শ্যামপুকুর। এর উলটো ছবি দেখা গেল পাশের কেন্দ্র জোড়াসাঁকোতে। সেখানে তৃণমূল কিংবা বিজেপি, কোনো পক্ষই ঝামেলার অভিযোগ করেনি।
এদিন সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁদের পোলিং এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন শ্যামপুকুরের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ৭, ১৮, ২০, ২১, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুরে এমন একাধিক অভিযোগ করেন পূর্ণিমা। কোথাও কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। পূর্ণিমাদেবী বলেন, ‘বহু জায়গায় আমাদের এজেন্টকে বুথে বসতে দেওয়া হয়নি। তারপর নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে বুথে এজেন্ট বসানো হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে তৃণমূল ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। সেটাও আটকানো হয়েছে।’ পালটা শশী পাঁজা বলেন, ‘ওঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং বিজেপি প্রার্থীই বিভিন্ন বুথে ঘুরে আমাদের কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন। শোভাবাজার অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ক্যাম্প ভাঙচুর করেছেন।’ শোভাবাজারের অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শশী পাঁজার চিফ ইলেকশন এজেন্ট ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তারকনাথ চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে যান। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছেও এনিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। তারকনাথ বলেন, ‘নিয়ম মেনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের বাইরে ক্যাম্প অফিস করা হয়েছে। তারপরেও বিজেপি প্রার্থী বিভিন্ন বুথে ঘুরে ঘুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছেন।’ এদিন পূর্ণিমা চক্রবর্তী সোনাগাছি অঞ্চলে গেলে সেখানে তাঁকে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বাগবাজার অঞ্চলেও বিজেপি প্রার্থীকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। উত্তর কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও তুলনামূলক সরগরম ছিল শ্যামপুকুর। এখানকার তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা বলেন, ‘বিজেপি প্রার্থী বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। উনি হয়তো চাইছিলেন না যে শান্তিপূর্ণ ভোট হোক। তাই তিনি সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের ক্যাম্পে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এই ধরনের আচরণ একজন প্রার্থীর থেকে আশা করা যায় না। উনি চেষ্টা করেছিলেন, মানুষ যাতে ভোট না দিতে পারে। কিন্তু সেই চেষ্টা বৃথা গিয়েছে।’
অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে ঘুরে বেড়িয়েছেন জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিজয় ওঝা। কখনও বিভিন্ন বুথে ঘুরে, কখনও নিজস্ব আস্তানায় বসে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়। তবে কোনো পক্ষই কোনো অভিযোগ করেনি।