


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপরই তাদের নির্দেশ মতো রাজ্যের সবক’টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সেই বৈঠকেই উঠে এল বাকবিতণ্ডার ছবি! মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে সিইও মনোজ আগরওয়ালকে। একাধিক প্রশ্ন তুলেছে সিপিএমও।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন করা হয়, কোনও ভোটার যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তা কীভাবে যাচাই করা সম্ভব? সিপিএমের তরফে বলা হয়, কে নাগরিক আর কে নাগরিক নয়, তা যাচাই করার এক্তিয়ার কমিশনের নেই। বৈঠক শেষে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে প্রচুর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আত্মহত্যা করছেন। তার দায় কমিশনকেই নিতে হবে। ২০০২ সালে ২ বছর ধরে এসআইআর হয়েছিল। এখন কেন পুরো প্রক্রিয়া দু’-আড়াই মাসে শেষ করতে চাইছে তারা? কাদের খুশি করতে কমিশন এটা করছে?’ তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘সবাইকে মা-বাবার জন্মের শংসাপত্র জমা দিতে হবে? কমিশনের অধিকার নেই কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার। আসলে এসআইআর পূর্বপরিকল্পিত। সিএএ, এনআরসির ক্যাম্প শুরু হয়েছে। বিশাল খেলা চলছে।’ প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের শাসক দলের তরফে বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। তিনি জানান, বাংলার একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে প্রতিবাদে সরব হবে তৃণমূল। বৈঠকের পর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশন থেকে ১২টি নথির কথা বলা হচ্ছে। বাকি ১১টি নথি যে নাগরিকত্বের প্রমাণ, এটা কীভাবে বলা হচ্ছে? নাগরিকত্ব ঠিক করার অধিকার কমিশনকে কে দিয়েছে? অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া এসআইআর-কে স্বাগত জানিয়েছেন। তৃণমূলের বক্তব্যের বিরোধিতাও করেন তিনি। সর্বদল বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সবক’টি রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কাম্য। বুথভিত্তিক যত বেশি সম্ভব এজেন্ট নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলগুলিকে। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করাই তাঁদের লক্ষ্য। এসআইআর নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। সিইও বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে আমরা তিন-চারবার যাব। বাংলায় এসআইআর শুরুর আগে ম্যাপিং হয়েছে। ফলে কোনও বুথে ২০০২ সালে কতজন ভোটার ছিলেন, তা জানা গিয়েছে। এটা নিয়ে অনেক ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আসলে ২০০২ সালের পর অনেকে ভোটকেন্দ্র বদলেছেন।’