


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও সন্দেশখালিতে ঘাতক গাড়ির চালক অধরা। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সন্দেশখালি। তাহলে কি শাহজাহানের শাগরেদ হওয়ার কারণেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়। শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকাতেই গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে গাড়িচালক অভিযুক্ত আলিম মোল্লা। তারপরেও তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।
শাহজাহান হেপাজতে থাকায় সেই ‘শূন্যস্থানে’ নতুন করে ‘ত্রাস’ সৃষ্টি করেছে এই আলিম মোল্লা। সিবিআইয়ের খাতায় সে অভিযুক্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে কীভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে, তা নিয়ে নানামহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে ফরেন্সিক টিম। এলাকা ও গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। বুধবার সকালে সরবেড়িয়ার বাড়ি থেকে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে বসিরহাট আদালতে আসছিলেন ভোলানাথ ঘোষ ও তাঁর ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ। ২০২২ সালে একটি ধর্ষণের মামলায় দ্বিতীয় ট্রায়ালের দিন ছিল ওইদিন। সেই সময় বয়ারমারি ঘোষপাড়া এলাকায় উলটোদিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে পাশের নয়ানজুলিতে ফেলে দেয়। ভোলানাথবাবুর গাড়ির চালক দুর্ঘটনা এড়াতে মূল সড়ক থেকে বাঁদিকে অনেকটা সরলেও রক্ষা পাননি। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনামাফিক এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, তাই করেছে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘাতক ট্রাকের স্টিয়ারিংয়েই বসেছিল শাহজাহানের বিশ্বস্ত ‘সৈনিক’ আলিম মোল্লা। দুর্ঘটনা ঘটানোর পর এক যুবকের বাইকে চেপে গা-ঢাকা দেয় সে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারের পর বৃহস্পতিবার সকালেও তাকে এলাকায় দেখা গিয়েছে। কিন্তু, প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ফলে, তাকে ধরাও যায়নি। জানা গিয়েছে, মাছের ভেড়ির আলাঘরে সে রাত কাটিয়েছে। আর তাকে পাহারা দিয়েছে শাগরেদরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজাহানের অবর্তমানে সন্দেশখালির সাম্রাজ্যের রক্ষাকর্তা এখন আলিম মোল্লা। শাহজাহানের বাড়িতে ইডি অফিসারদের উপর হামলায় মূল অভিযুক্ত ছিল এই আলিম। একাধিকবার তার বাড়িতে চিঠি ও নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপরেও পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সংস্থা তাকে হেপাজতে নিতে পারেনি। আলিমের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সবটাই চক্রান্ত। বুধবার সকালে নিজের জমিতে চাষ করতে ব্যস্ত ছিল সে। হঠাৎ তার নামে অভিযোগ উঠতেই পালিয়ে যায়। এখন বিরোধীরা অনেক কিছুই বলবে। বৃহস্পতিবার ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভোলানাথ ঘোষ। তিনি বলেন, শাহজাহানের মদতেই আমাদের খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি বেঁচে গেলেও ছেলে ও গাড়িচালক মারা গিয়েছে। এদিন একটি ধর্ষণের মামলার ট্রায়ালে যাচ্ছিলাম। কতটা পরিকল্পনা করলে এমনটা করা যায়, বোঝাই যাচ্ছে। আমি চাই গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক। এদিন ভোলানাথবাবুর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যান সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মল্লিক। তিনি বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। এখনই এনিয়ে কিছু বলব না। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর ঘোষ, ফজলুল আলিরা বলেন, আলিমকে গ্রেফতার করা না পর্যন্ত অবরোধ চলবে। কারও কথা আমরা শুনব না। এনিয়ে পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।