Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গত বছরই হাওড়া ঘুরে গিয়েছে আল কায়েদার শামা

গুজরাত এটিসের হাতে ধৃত মহিলা আল কায়েদা জঙ্গি শামা পারভিন একবছর আগে ঘুরে গিয়েছে এরাজ্যে। হাওড়ার শিবপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে কয়েকদিন কাটিয়ে সে চলে যায় বেঙ্গালুরু।

গত বছরই হাওড়া ঘুরে গিয়েছে আল কায়েদার শামা
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গুজরাত এটিসের হাতে ধৃত মহিলা আল কায়েদা জঙ্গি শামা পারভিন একবছর আগে ঘুরে গিয়েছে এরাজ্যে। হাওড়ার শিবপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে কয়েকদিন কাটিয়ে সে চলে যায় বেঙ্গালুরু। আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কনটিনেন্টের এই জঙ্গিকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গুজরাত এটিএস। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, ‘দাওয়াত’ দিতেই এখানে হাজির হয়েছিল শামা। রাজ্যে কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি, এখানে থাকা আত্মীয়ের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ করছেন গুজরাত পুলিসের অফিসাররা।

Advertisement

দিন পনেরো আগে গুজরাত পুলিসের হাতে চার আল কায়েদা জঙ্গি ধরা পড়ে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় জঙ্গি ভাবধারা ও আদর্শের প্রচার চলছে। এমনকী ইনস্টাগ্রামেও একাধিক প্রোফাইল খোলা হয়েছে। সেখানে একিউআইএসের অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি মৌলানা আসিম উমর ও আনওয়ার উল আওলাকির হিংসাশ্রয়ী জেহাদের প্রচার চলছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটি নিয়ন্ত্রণ করছে ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা শামা পারভিন নামে বছর তিরিশের এক যুবতী। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সূত্র ধরে তাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে গুজরাত এটিএস।
তার সোশ্যাল মিডিয়া ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ঘাঁটতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে বাংলা-বিহার-ঝাড়খণ্ড নিয়ে আলাদা একটি গ্রুপ রয়েছে। ওই সন্দেহভাজনকে জেরা করে গুজরাত এটিএসের অফিসাররা জানতে পারেন, তাদের মগজ ধোলাই করে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের প্রচার চালাচ্ছিল সে। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও সে পোস্ট করেছে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, বাংলার সঙ্গে তার যোগ পুরনো। তদন্তে উঠে আসে, বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে থাকা পুরনো আল কায়েদা জঙ্গিদের টার্গেট করেছিল সে। সেই কারণে বসে যাওয়া বা সাজা খেটে বেরনো জঙ্গিদের বিষয়ে সে বিস্তারিত খোঁজ চালাচ্ছিল। এমনকী নতুন সদস্য জোগাড় হওয়ার পর সে দাওয়াত দিতে বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে। জেরায় শামা জানায়, ঝাড়খণ্ডে থাকার সময় সে বেশ কয়েকবার সংগঠনের কাজে বাংলায় গিয়েছে। এখানে আল কায়েদার হয়ে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকও করেছে। কিন্তু বাংলার সঙ্গে শামার যোগের বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হাওড়ায় এক আত্মীয় রয়েছে তার। এই বিষয়ে আল কায়েদা জঙ্গিকে জেরা করা হলে হাওড়ায় তার আত্মীয় থাকার খবর সে স্বীকার করে। শামা আরও জানায়, এখানে সে এসেছিল ২০২৪ সালে। নিতান্তই বেড়াতে এসেছিল। এক আত্মীয়ের একটি অনুষ্ঠান ছিল ওই বাড়িতে। যদিও তার এই সরল ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি এটিএস অফিসারদের। তাঁদের অনুমান, আল কায়েদায় নতুন যোগ দেওয়া সদস্যদের দাওয়াত দিতেই শামা রাজ্যে এসেছিল। দেশ-বিরোধী ভাবধারার প্রচারও চালিয়েছে সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ