Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংক্রিটের ছাদে রকমারি পদ্মচাষ করে স্বনির্ভর হচ্ছেন হাবড়ার অজয়

ফুল ভালোবাসেন না, এমন লোক পাওয়া দায়। সেই ভালোলাগা থেকেই মাত্র ৬০০ স্কোয়ার ফুটের কংক্রিটের ছাদে পদ্মচাষ করে নজর কেড়েছেন হাবড়ার অজয় গোলদার।

কংক্রিটের ছাদে রকমারি পদ্মচাষ করে স্বনির্ভর হচ্ছেন হাবড়ার অজয়
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ফুল ভালোবাসেন না, এমন লোক পাওয়া দায়। সেই ভালোলাগা থেকেই মাত্র ৬০০ স্কোয়ার ফুটের কংক্রিটের ছাদে পদ্মচাষ করে নজর কেড়েছেন হাবড়ার অজয় গোলদার। অজয় থাকেন ভাড়াবাড়িতে। তাই ঠাকুমার বাড়ির ছাদে প্রায় ৪০ প্রজাতির পদ্মচাষ করে স্বনির্ভর হচ্ছেন তিনি। অনলাইনে তাঁর চাষের পদ্ম পাড়ি দিচ্ছে ভিনরাজ্যেও। এই পদ্মচাষই এখন আলো দেখাচ্ছে অজয়কে।

Advertisement

হাবড়া পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৈপুকুরের বাসিন্দা কুমড়ার আইটিআই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অজয়। এক পরিচিতর পরামর্শে বছর তিনেক আগে পদ্মচাষ শুরু করেন তিনি। কৈপুকুরেই তাঁর ঠাকুমার পাকাবাড়ির ৬০০ স্কোয়ার ফুট ছাদে প্রথম পদ্মচাষের হাতেখড়ি হয়। লাল, হলুদ, গোলাপি, সবুজ, সাদা রঙের পদ্মের বাগান তাঁর। ভারতীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সিতারা, ঐশ্বর্য, ইন্দুলেখা, শ্বেতা, মোহং থেকে বাটার মিল্ক। পাশাপশি ভিয়েতনামের পদ্মের প্রজাতিও রয়েছে অজয়ের ছাদবাগানে। রেড আমেথি থেকে রেড ইডেন, পিঙ্ক ইডেন সহ পিউ-১৭০। এছাড়াও লিয়াংলি, ইয়োস, এপেক্সান সিক্সটিন, মৃণালিনীর মতো পদ্মের প্রজাতিও রয়েছে অজয়ের সংগ্রহে। পদ্মের বাগানের যত্ন নেওয়া থেকে সার দেওয়া, সবটাই নিজের হাতে করেন তিনি।
ছোট থেকেই গাছের প্রতি তীব্র ভালোবাসা রয়েছে অজয়ের। সেই ভালোবাসা দিয়েই ৬০০ স্কোয়ার ফুট ছাদে বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। নিয়ম করেই গাছের পদ্মফুল তুলে পুজোর জন্য দিয়ে আসেন হাবড়ার হনুমান মন্দিরে। তবে, শুধু পদ্মফুল তিনি বিক্রি করেন না। কন্দ বা কাণ্ড সহ পদ্ম বিক্রি করে উপার্জন হয় তাঁর। রাজ্যের সব জেলাতেই বিক্রি হয় অজয়ের পদ্ম। তাছাড়া ভিনরাজ্যেও বিক্রি হয়। তামিলনাড়ু, চেন্নাই থেকে কেরল, অসম, ত্রিপুরা সহ ওড়িশায় অনলাইনে অর্ডার অনুযায়ী পদ্মগাছ বিক্রি করেন তিনি। প্রতিমাসে পদ্ম বিক্রি করে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি উপার্জন হয় তাঁর।
অজয় বলেন, আইটিআইয়ে ফিটার নিয়ে পড়াশোনা করছি। সেই খরচ পদ্মচাষ করেই সামাল দিচ্ছি কোনওরকমে। নানারকমের সমস্যার মধ্যেও ছাদবাগানে হরেক রঙের পদ্মফুল দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়। নতুন নতুন পদ্মের ভ্যারাইটি তৈরির চেষ্টা করি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ