নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হেরিটেজ’ তকমা পাওয়ায় ব্যাঙ্কশাল কোর্ট ভবনের কোনও অংশ ভাঙা বা পরিবর্তন করা যাবে না। সেকারণে ভবনটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে আদালত প্রশাসন ও আইনজীবীদের সংগঠনের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু জট খোলা যায়নি। সেকারণে পুরো প্রকল্পই বিশবাঁও জলে বলে মনে করছে আইনজীবীদের একাংশ।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের এই মুখ্য ফৌজদারি আদালত কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করতে হলে দরকার বিদ্যুতের বড়সড় ট্রান্সফরমার বসানো। তারজন্য বহু আগেই সমীক্ষা করা হয়েছে। ঠিক হয়েছিল, চেন্নাই থেকে ওই ট্রান্সফরমার আনা হবে। কিন্তু সেটি কোর্ট চত্বরে আনা এবং তা বসানোর ক্ষেত্রে আদালত ভবনের কোনও না কোনও অংশ ভাঙতে হতে পারে। কিন্তু তা নিয়ে নানা মহলে আপত্তি ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে কয়েকদফা আলোচনা হলেও ‘হেরিটেজ’ তকমার কারণে এই কাজ থমকে যায়।
প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, নানা স্থাপত্যে মোড়া এই কোর্ট ভবনের প্রতিটি খাঁজে লুকিয়ে রয়েছে অজস্র ইতিহাস। একবার এই স্থাপত্যের ক্ষতি হলে তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। এই অবস্থায় আদালত প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার। ব্যাঙ্কশালের ভবনে রয়েছে একাধিক কোর্টের নানা অফিস ও এজলাস। রয়েছে প্রচুর ট্রায়াল কোর্ট, সরকারি আইনজীবীদের ঘর, দু’টি লকআপ। এছাড়াও ওই ভবন লাগোয়া চত্বরে রয়েছে দু’টি স্ট্যাম্প ভেন্ডার, কলকাতা পুলিসের দু’টি জেনারেল রেকর্ড বিভাগ, মহিলা লকআপ ইত্যাদি। ফলে প্রতিদিন মামলার সূত্রে এই কোর্টে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী আসেন। দীর্ঘ সময় তাঁদের কোর্টেই কাটাতে হয়। গ্রীষ্মকালে গলদঘর্ম অবস্থা হয় বিচারক, বিচারপ্রার্থী থেকে আইনজীবী, কর্মচারীদের। ফলে বহুদিন ধরেই এজলাসগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার দাবি তুলেছে বিভিন্ন মহল। গত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজও তা বাস্তব রূপ পায়নি।