সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: স্বামী মারা গিয়েছেন ন’বছর আগে। তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ির নলডুবির বাসিন্দা বাসন্তী দাসের। তাঁর তিন মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাকি সন্তানদের কীভাবে খাওয়াবেন? কীভাবে লেখাপড়া করাবেন? বিশেষ করে দুই মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেবেন? প্রবল দুশ্চিন্তা তাঁকে গ্রাস করে। ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। তখন আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীরা তাঁকে বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তো তুমি আগে প্রতিমা গড়ার কাজে সাহায্য করতে, সেটাকে জীবিকা হিসেবে কাজে লাগাতে পার।’ শুরু হয় জীবনের নতুন সংগ্রাম। বেঁচে থাকা এবং দুমুঠো ভাতের জন্য লড়াই চলে। শত কষ্ট মুখ বুজে সহ্য করে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে মাটির প্রতিমা তৈরির কাজে নেমে পড়েন বাসন্তীদেবী। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মহিলা মৃৎশিল্পী।
মরশুম অনুয়ায়ী কালী, সরস্বতী, কার্তিক , মনসা প্রতিমা গড়ার বরাত পান। উপার্জন করে এভাবে দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। ছেলেকে পড়াশোনা শেখান। মূর্তি বানানোর কাজ ছেলেকে যত্ন সহকারে শিখিয়ে দেন। সেই ছেলে এখন মাকে সহযোগিতা করে। এবার ৫২ বছরের বাসন্তীদেবী চারটি বড় দুর্গা প্রতিমা গড়ছেন। কিন্তু প্রতিমা গড়ার তাঁর জায়গার অভাব রয়েছে। স্থানীয় এলাকার মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে তিনি প্রতিমা তৈরি করেন। একটি প্রতিমা প্রতিবেশীর বাড়ির মধ্যে বানাচ্ছেন। এমন লড়াইকে এলাকার বাসিন্দারা কুর্নিশ জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসন্তীর স্বামী কৃষ্ণ দাস মৃৎশিল্পী ছিলেন। কাজ করার সময় তিনি স্বামীকে সাহায্য করতেন। কীভাবে ধাপে ধাপে মাটির প্রতিমা গড়তে হয়, সেই বিদ্যা স্বামী শিখিয়েছিলেন। ন’বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের সব দায়িত্বে স্ত্রীর কাঁধে চলে এসেছে। এবারে খৈহাট্টা, বাগানপাড়া, নলডুবি সহ চারটি প্রতিমার কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। মৃৎশিল্পী বাসন্তী বলেন,স্বামী মারা যাওয়ার পর দিন যায় কষ্টে। ভাগ্যিস স্বামীর কাছ থেকে প্রতিমা গড়ার কাজটা শিখে রেখেছিলাম। সেই কাজ করে এখন সংসার চলছে। মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নলডুবি এলাকার সদস্য শিবু কর্মকার বলেন, আমরা নিজের চোখে দেখেছি ওই মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্ট করেছেন। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা ছিল। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে বড় করেছেন। তাঁকে কাজ শিখিয়েছেন। নিজস্ব চিত্র