নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাঞ্জাব, হরিয়ানার দুই সীমানা এলাকা শম্ভু এবং খানাউরিতে চাপা টেনশনের আবহ অব্যাহত রইল বৃহস্পতিবারও। বুধবার রাতেই শম্ভু সীমানায় আন্দোলনকারী কৃষকদের অস্থায়ী ছাউনি, তাঁবু, আন্দোলন মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাঞ্জাব পুলিস-প্রশাসন। টেনে হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে আন্দোলনকারী কৃষকদের একটি অংশকে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে পুলিস। বৃহস্পতিবার সকালেও কার্যত একই ছবি দেখা গিয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানার খানাউরি সীমানায়। দেখা গিয়েছে, বুলডোজার দিয়ে খানাউরি সীমানায় আন্দোলনকারীদের মঞ্চ, তাঁবু ভেঙে দিচ্ছে পাঞ্জাব সরকারের পুলিস প্রশাসন। এমনকী রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এদিন সকালেই পাঞ্জাব পুলিসের শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দেন যে, তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই শম্ভু এবং খানাউরি দু’টো সীমানা দিয়েই স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করবে। বাস্তবে সেটিই হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই দু’টো সীমানা এলাকা দিয়ে পুরোদমে যানবাহন চলাচল শুরু করে।
রাজ্যের প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আর কাউকেই এভাবে রাস্তা আটকে আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না। পাঞ্জাবের শাসক দল আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভার সদস্য সন্দীপ পাঠক বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে বলেন, এভাবে রাস্তা আটকে আন্দোলনে কৃষকদেরই ক্ষতি হচ্ছে। কেন্দ্রের মোদি সরকারকে কৃষকদের কথা শুনতেই হবে। যদিও এভাবে জোর করে আন্দোলন শেষ করে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কৃষকরা। এদিনও তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোদি বিরোধিতায় আন্দোলন চলবেই। খুব শীঘ্রই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত কিষান মোর্চা অভিযোগ করেছে, আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতে শম্ভু এবং খানাউরির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচুর পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করতেও কৃষকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বুধবার রাতেই কৃষকদের সঙ্গে কেন্দ্রের মোদি সরকারের তৃতীয় দফার বৈঠকও ব্যর্থ হয়। তারপরেই রাত থেকে শুরু হয়েছে ধরপাকড়, ভাঙচুর। অশীতিপর কৃষক নেতা ক্যান্সার আক্রান্ত জগজিৎসিং দাল্লেওয়ালকেও গ্রেপ্তার করেছে পাঞ্জাব পুলিস। এদিন হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে আন্দোলনকারী কৃষকদের একটি অংশ। হরিয়ানা পুলিসের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারী কৃষকরা।