


নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তেজস্বী যাদব। নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিশানা করলেন বিহারের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী। তেজস্বীর দাবি, মোদি ও নীতীশ ভোটার তালিকা থেকে গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কমিশন ফরমান জারি করেছে যে, ভোটার তালিকায় নাম থাকাই আর যথেষ্ট নয়। ভোটারদের এবার নাগরিকত্বের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও ‘ঘোষণাপত্র’ জমা দিতে হবে। ব্লক লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করে আপলোড করবেন। আপাতত বিহারে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভবিষ্যতে সারা ভারতেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। এরপরই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বিজেপি আসলে ভোটার তালিকায় কারচুপির পথ খুলে দিচ্ছে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে গোটা দেশে এনআরসির ছক কষেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শুক্রবার তেজস্বীও একই সুরে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন হঠাত্ করেই স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) কথা ঘোষণা করল। এর অর্থ, ফেব্রুয়ারিতে যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তা অর্থহীন হয়ে পড়ল।’ তাঁর অভিযোগ, বিহারের আট কোটি বাসিন্দার নাম সেই তালিকায় ছিল। এখন ফের নতুন করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দু’মাস আগে কীভাবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তেজস্বীর প্রশ্ন, ‘মাত্র ২৫ দিনে কি নতুন ভোটার তালিকা তৈরি করা আদৌ সম্ভব? এছাড়া যে সব নথি চাওয়া হচ্ছে, তা গরিবদের কাছে নেই। এতেই স্পষ্ট, নীতীশজি ও মোদিজি ভয় পেয়েছেন। তাই তাঁরা গরিবদের নাম বাদ দিতে চাইছেন। গণতন্ত্রে গরিবদের ভোটাধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ এই বিষয়ে আরজেডি কমিশনে প্রতিনিধিদল পাঠাবে বলেও জানান তেজস্বী।
কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে সিপিএম। এসআইআর নিয়ে নির্দেশিকা বাতিলের দাবিও জানিয়েছে তারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা এক চিঠিতে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য নীলোত্পল বসু জানিয়েছেন, ভোটের কয়েক মাস আগে এত বিরাট কর্মসূচি অত্যন্ত বিপজ্জনক।