Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি, অবশেষে মহানালা ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করল বালি পুরসভা, জমা জল থেকে রেহাই পাবেন লিলুয়ার ৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দা

জলযন্ত্রণা থেকে এখনও মুক্তি পায়নি লিলুয়ার একাধিক ওয়ার্ড।

দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি, অবশেষে মহানালা ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করল বালি পুরসভা, জমা জল থেকে রেহাই পাবেন লিলুয়ার ৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জলযন্ত্রণা থেকে এখনও মুক্তি পায়নি লিলুয়ার একাধিক ওয়ার্ড। একে সরু নিকাশি নালা, তার উপর বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ার ফলে লিলুয়ার নীচু এলাকায় থাকা ওয়ার্ডগুলি থেকে জমা জল সরেনি বললেই চলে। সব মিলিয়ে ছ’টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। তাঁদের ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে অবশেষে কয়েক বছর পর মহানালা সংস্কারের উদ্যোগ নিল বালি পুরসভা। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ মহানালার প্রথম অংশের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে বুধবার। ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ নিকাশি নালা সংস্কার করবে কেএমডিএ। সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

Advertisement

বালি পুরসভার অন্তর্গত লিলুয়ার প্রায় ছ’টি ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মহানালার উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ২৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছুটা অংশের জল এই নালাতে গিয়ে পড়ে। মূলত লিলুয়ার নীচু এলাকা ভট্টনগর থেকে মহানালা শুরু হয়েছে। এরপর তা রবীন্দ্র সরণি, মিরপাড়া, জলার মাঠ, মডার্ন ফ্যাক্টরি, দেবী মন্দির লেন এলাকা হয়ে ডোমজুড়ের মধ্যে দিয়ে গিয়ে সরস্বতী খালে মিশেছে। ২০২১ সালে শেষবার মহানালা সংস্কার করা হয়েছিল। গত চার বছর ড্রেজিং না হওয়ার কারণে পলি জমে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। গত বছর থেকে লিলুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জমা জলের সমস্যা চরম আকার নেয়। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, নভেম্বর মাস চলে এলেও বেশ কিছু ওয়ার্ড থেকে নোংরা জল এখনও সরেনি। মহানালা পরিষ্কারের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে আবেদন জানায় বালি পুরসভা। এরপরেই আট কিলোমিটার দীর্ঘ মহানালা সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুম মিটতেই বুধবার থেকে মহানালার প্রথম পর্যায়ের সংস্কারের কাজ শুরু করেছে কেএমডিএ।
বালি পুরসভা সূত্রে খবর, আপাতত মহানালার উৎপত্তি থেকে দু’ কিমি অংশে ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে। এই এলাকায় মহানালার প্রস্থ কম, তাই সাফাই কর্মীদের নামিয়ে ম্যানুয়ালি পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে জেসিবি, এসকেভেটরের মতো ভারী মেশিন নামিয়ে ড্রেজিং চলবে। বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মহানালার নীচু অংশের সংস্কার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ হয়ে গেলে হাজার হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবেন। আগামী দু’-তিন বছর জমা জলের ভোগান্তি আর সহ্য করতে হবে না।’ এদিন সকাল থেকে সংস্কারের কাজ খতিয়ে দেখেন পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। পুরসভার এই তৎপরতায় খুশি লিলুয়ার বাসিন্দারা। লিলুয়ার মিরপাড়া ও জলার মাঠ এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘নোংরা জলের কারণে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব ভীষণ বেড়েছে। ঘরে ঘরে চর্মরোগ ও ডায়েরিয়ার সমস্যা লেগে রয়েছে। অবশেষে মহানালা পরিষ্কারের কাজ হওয়ায় জমা জলের ভোগান্তি মিটতে চলেছে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ