


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিচারাধীন ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের আগেই কি বাংলার ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে? রাজ্য সফরে এসে এই প্রশ্নের উত্তরে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁকে শুধু বলতে শোনা গিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো তালিকা প্রকাশ হবে। কিন্তু সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো তৎপর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। জানা যাচ্ছে, যে কোনো মুহূর্তে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাবে শীর্ষ আদালত নির্দেশিত ‘ট্রাইব্যুনালে’র। আর তারপর, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই, অর্থাৎ সোমবার প্রকাশ হয়ে যেতে পারে বিচারাধীন ভোটারদের বাছাই পরবর্তী প্রথম অতিরিক্ত তালিকা।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, বিচারকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ করতে পারবে না কমিশন। পাশাপাশি কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করে দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের দু’-তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। একমাত্র সেই ট্রাইব্যুনালেই বিচারবিভাগীয় কাজ সংক্রান্ত আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ বিচারকদের যাচাই শেষে বিচারাধীন তালিকা থেকে যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ওই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। কীভাবে আবেদন জানাতে হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ফরম্যাটও তৈরি হবে। মূলত সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই ফরম্যাট ঠিক করা হবে জানা যাচ্ছে।
বিচারকরাও অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে বিচারাধীন তালিকার নিষ্পত্তির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের তুলনায় কাজের গতি অনেকটাই বেড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৫ লক্ষ নথি যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ইতিমধ্যেই বিচারাধীন তালিকার যাবতীয় নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ। তারপর এই দুই জেলার দায়িত্বে থাকা মোট ১৭ জন বিচারকের মধ্যে ৭ জন বিচারককে ইতিমধ্যেই অন্যত্র দায়িত্ব সামলাতে বলা হয়েছে। এই সাতজনের মধ্যে তিন বিচারককে মালদহের সুজাপুর এবং মোথাবাড়িতে নিয়োগ করা হয়েছে। আরও দুই বিচারককে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ও চোপড়া এবং একজন করে বিচারককে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও জলপাইগুড়ির মাল বিধানসভায় নিয়োগ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল গঠন ও অতিরিক্ত তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে রাজ্য ও কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সেখানে দু’টি বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া-পুরুলিয়া ছাড়াও রবিবার পর্যন্ত যে সংখ্যক ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে, তাঁদের নাম থাকবে তালিকায়। যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ শব্দের উল্লেখ থাকতে পারে। ঠিক যেমনটা ছিল গত ২৮ তারিখ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। আর অতিরিক্ত তালিকায় ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা হাইকোর্টের জারি করা ‘ফরম্যাট’ পূরণ করে নাম অর্ন্তভুক্তির জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। আবেদন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল। শুধু তাই নয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, অতিরিক্ত তালিকায় ভোটারের নামের বানান, পদবি ও ঠিকানা ছাড়াও কোনো ক্ষেত্রে গোলোযোগ থাকলে, ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া যাবে।