নয়াদিল্লি: স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠলেই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলা যায় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রায় তিন দশক আগে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী ও অরবিন্দ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, শুধুমাত্র সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে বা হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বলেই কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে কাউকে দোষী করতে গেলে শুধুমাত্র পুরনো ঝগড়া বা মানসিক টানাপোড়েনের বাইরেও বৈবাহিক সম্পর্কের অন্য বিষয়গুলি দেখতে হবে।
ওই মামলার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ২০০১ সালে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৩ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত তাঁর মৃত স্ত্রীকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেছিলেন বা উস্কানি দিয়েছিলেন, এমন কোনও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন। ওই মহিলা নিজের বাড়িতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মহিলার পরিজনরা অভিযোগ করেছিলেন, আত্মহত্যার দু’দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির ঝগড়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যদি ধরেও নেওয়া হয় ওই পরিস্থিতির জেরেই মহিলা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাহলেও ওই ব্যক্তিকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।