Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘উই লাভ এবি’ স্লোগানে মুখর হল অভিষেকের জনসভা, বাদুড়িয়াকে জেলার ‘ফার্স্ট বয়’ ঘোষণা

সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনি প্রচারে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘উই লাভ এবি’ স্লোগানে মুখর হল অভিষেকের জনসভা, বাদুড়িয়াকে জেলার ‘ফার্স্ট বয়’ ঘোষণা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনি প্রচারে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দেম ওরফে লিটনকে ঘিরে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন তিনি। নদীয়া থেকে কপ্টারে সভাস্থলে পৌঁছান ‘মমতার দূত’। আকাশে কপ্টার চক্কর কাটতেই নীচে জড়ো হওয়া কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। ‘উই লাভ এবি’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থলের চারিপাশ। মঞ্চে উঠে হাত তুলে সেই উচ্ছ্বাসের জবাব দেন অভিষেক। বক্তৃতার শুরু থেকেই লিটনকে কেন্দ্র করেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। যুব তৃণমূলের সময় থেকে লিটনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন। বলেন, ‘অনেক আগেই ওর প্রার্থী হওয়া উচিত ছিল। ২০১৬ বা ২০২১-এ সুযোগ ছিল। কিন্তু টিকিট না-পেয়েও দল ছাড়েনি। বুক চিতিয়ে দলের জন্য লড়েছে।’ এই মন্তব্যে লিটনকে ‘নিষ্ঠাবান’ কর্মী হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি দলবদলের রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তাও দেন অভিষেক। 

Advertisement

সভায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত আসে, যখন লিটনের হাত ধরে অভিষেক বলেন, ‘আপনারা ধরে নিন, বাদুড়িয়ার বিধায়ক আমি!’ প্রার্থীর সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পর্ককে সামনে এনে ভোটারদের কাছে আস্থার বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন অভিষেক। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এইসময় মঞ্চে লিটনের চোখেমুখে আবেগের ছাপও স্পষ্ট ছিল। এলাকার মানুষের উন্নয়নের বিষয়টিও এদিন উঠে আসে অভিষেকের বক্তব্যে। তিনি জানান, এলাকার মানুষ চাষাবাদ করেন। প্রচুর সবজিও উৎপাদন হয়। এলাকায় একটি হিমঘর তৈরি করার যথার্থ দাবি উঠেছে। লিটন ভোটে জেতার পর সেই কাজ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। 
এদিকে সমাগম দেখে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক শুধু জয়ের কথাই বলেননি, ব্যবধানও বেঁধে দেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তর ২৪ পরগনায় ‘ফার্স্ট বয়’ হবে বাদুড়িয়া। ওইসঙ্গে অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন তিনি। বিরোধীদের আক্রমণেও ছিল সেই একই সুর। 
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম ওরফে দিলুকে (যিনি এবার কংগ্রেস প্রার্থী) নিশানা করে অভিষেক বলেন, মানুষের পাশে না দাঁড়ালে মানুষ তার জবাব দেয়। দলবদল প্রসঙ্গে কটাক্ষসহ তাঁর মন্তব্য, ‘আজ যা দেখছেন এটা ট্রেলার। ৪ মে-র পর আসল ছবি বোঝা যাবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট। সভায় সংগঠনের ভূমিকাও তুলে ধরেন অভিষেক। 
অভিষেকের বক্তব্য, লিটনের লড়াই আসলে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রমের ফল। প্রার্থী না-হয়েও এলাকায় কাজ করে যাওয়াই তাঁর বড়ো শক্তি। সেই কারণেই দল তাঁকে প্রার্থী করেছে। সভার শেষদিকে মঞ্চে জুতো খুলে কর্মী-সমর্থকদের প্রণাম জানান অভিষেক। জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর আবার বাদুড়িয়ায় আসব।’ সব মিলিয়ে, বাদুড়িয়ার এই জনসভা থেকে তৃণমূলের কৌশল স্পষ্ট—লিটনকে সামনে রেখে ‘নিষ্ঠা বনাম দলবদল’-এর রাজনৈতিক বার্তাকে জোরদার করা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ