ঢাকা: আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। আর তার মধ্যেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আব্দুল হামিদের দেশত্যাগ নিয়ে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে পদ্মাপারের দেশে। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হামিদ কীভাবে বিমানে বিদেশে গেলেন, কোনও আধিকারিকের গাফিলতি রয়েছে কি না, তার তদন্তের জন্য তিনজন উপদেষ্টাকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এছাড়া ইতিমধ্যেই একাধিক পুলিস আধিকারিককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিরোধী কণ্ঠস্বর চেপে দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগ নতুন নয়। শেখ হাসিনার আমলে নিযুক্ত সরকারের সব শীর্ষ পদাধিকারীদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে ইউনুস সরকার। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদের বিরুদ্ধেও চাপ বাড়ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছে। এর মধ্যেই জানা যায়, গত বুধবার মাঝরাতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছেন হামিদ। পরিচয় লুকোতে তিনি লুঙ্গি, জামা, মুখে মাস্কও পরেছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিশেষ কূটনীতিক পাসপোর্ট থাকায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কোনও তল্লাশিও হয়নি। যদিও তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, চিকিত্সার জন্যই বিদেশে গিয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।
হামিদের দেশ ছাড়ার পরেই ইউনুস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেন, শেখ হাসিনার স্টাইলেই দেশে ছেড়ে চলে গিয়েছেন হামিদ। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি এই ব্যাপারে কিছুই জানে না। তাহলে তারা জানে কী? হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের কূটনীতিক পাসপোর্ট বাতিল হলেও হামিদের ক্ষেত্রে তা হয়নি কেন, প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও এই নিয়ে ইউনুস সরকারের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করে। এরপরই তড়িঘড়ি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। পুলিসের তরফেও একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সাসপেন্ড হয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিস সুপার ও বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগে কর্মরত পুলিসের এক অতিরিক্ত পুলিস সুপার সহ মোট চার পুলিস কর্তা।